রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নবীজির (সা.) জন্ম ও ওফাতের মাসে যেসব আমল করবেন

নিউজ ডেস্ক

সফর মাস শেষ হয়ে শুরু হয়েছে আরবি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। মুসলিমদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এ মাসেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। প্রচলিত মত অনুযায়ী, ১২ রবিউল আউয়াল তাঁর ওফাতের দিন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। এ কারণে মাসটি মুসলিমদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

মহানবী (সা.)-এর জন্মের সঙ্গে রবিউল আউয়ালের পাশাপাশি সোমবার দিনেরও বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সোমবার রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলে রাসুল (সা.) বলেন, এ দিন তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এ দিনই তাঁর ওপর ওহি নাজিল হয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা মহানবী (সা.)-কে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তো আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)

একই সঙ্গে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সুরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন।’

রবিউল আউয়ালে বিশেষ কোনো আমল আছে?

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, রবিউল আউয়াল মাসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ আমলের নির্দেশনা কোরআন-হাদিসে পাওয়া যায় না। তবে অন্যান্য মাসের মতো এ মাসেও ফরজ ইবাদতে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নফল ইবাদত করা যেতে পারে।

বিশেষভাবে সোমবার রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) নিজেও সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয় এবং তিনি পছন্দ করতেন তাঁর আমল রোজা অবস্থায় পেশ হোক। (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ৭৪৭)

তাই রবিউল আউয়াল মাসে ফরজ নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও অন্যান্য নেক আমলে মনোযোগী হওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর জীবন, চরিত্র ও আদর্শ সম্পর্কে জানা এবং তা নিজের জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ।

১২ রবিউল আউয়াল উদ্‌যাপন নিয়ে কী বলা হয়?

রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখকে কেন্দ্র করে বিশেষভাবে জন্মদিন বা শোক দিবস পালনের বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে সরাসরি কোনো নির্দেশনা নেই বলে উল্লেখ করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাহাবায়ে কেরামও এ দিনকে আলাদাভাবে উৎসব বা শোকের দিন হিসেবে পালন করেননি।

এ কারণে এ দিনকে কেন্দ্র করে শরিয়ত নির্ধারিত নয়—এমন কোনো বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা পালনের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। বরং রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ এবং তাঁর আদর্শকে জীবনে বাস্তবায়ন করাই তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুনভাবে যুক্ত করা হলে, যা এর অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৯৭)

ঈদে মিলাদুন্নবী কবে?

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে। এ উপলক্ষে দেশে সরকারি ছুটিও থাকবে।

মহানবী (সা.)-এর জন্মমাস রবিউল আউয়াল মুসলিমদের জন্য তাঁর জীবন ও আদর্শ স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই এ মাসে ফরজ ইবাদতে যত্নবান হওয়ার পাশাপাশি তাঁর শিক্ষা, ন্যায়নীতি, মানবতা ও উত্তম চরিত্র নিজের জীবনে অনুসরণের চেষ্টা করা যেতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন