রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

গরু কাটার ‘খাইট্টায়’ ১৫ টুকরো করা হয় কাস্টমস কর্মীর মরদেহ

নিউজ ডেস্ক

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় নিখোঁজের নয় দিন পর কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার কর্মী রাকিব রায়হানের (৪০) ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতিসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ফুলবাড়ীয়ায় রাকিবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি চাপাতি, একটি লোহার রড, তিনটি ছুরি, কাঠের খাটিয়া ও রক্তমাখা পাঞ্জাবি।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন—রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা এবং তার চাচাতো ভাই জিতুল। এর আগে মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে সিলেটের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকা থেকে ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

ত্রিশাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম হাসান ইস্রাফীল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

টাকার লোভে হত্যার প্রাথমিক ধারণা

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অর্থের লোভেই রাকিব রায়হানকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। গ্রেপ্তারের পর দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।

এএসপি এস এম হাসান ইস্রাফীল জানান, রাকিবের বাড়িতে থাকা একটি কাঠের খাটিয়ায় মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। পরে মরদেহের খণ্ডগুলো ব্যাগ ও বিছানার চাদরে মুড়িয়ে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতও রাকিবের বাড়িতে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

যেভাবে নিখোঁজ হন রাকিব

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাকিব রায়হান তালুকদার ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি গ্রামের বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার ভোরে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরে যেতেন।

গত ২৩ জুলাই তিনি বাড়িতে আসেন। ওই রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলামের সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়। পরদিন ২৪ জুলাই বিকেল থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরে ২৭ জুলাই রাতে রাকিবের বড় ভাই ফুলবাড়ীয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি করার পরপরই বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও তার চাচাতো ভাই জিতুল এলাকা থেকে উধাও হয়ে যান।

নয় দিন পর উদ্ধার হয় মরদেহ

নিখোঁজের নয় দিন পর, ২ আগস্ট ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে রাকিবের মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রাকিব ওই গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তার মা রাহেলা খাতুন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, রাকিব বিবাহিত ছিলেন। কয়েক বছর আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি নিয়মিত গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন