রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

২৫ বছর পর সামরিক আদালতের মুখোমুখি ৯/১১ হামলার ‘মূলহোতা’

নিউজ ডেস্ক

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মামলায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। হামলার পরিকল্পনার ‘মূলহোতা’ হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার তিন সহযোগীর বিচার ২০২৮ সালের জুনে শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক বিচারক।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মার্কিন বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামা চার আসামির বিচার শুরুর তারিখ ২০২৮ সালের ৫ জুন নির্ধারণ করেন। কিউবার গুয়ানতানামো বে সামরিক ট্রাইব্যুনালে এই বিচার অনুষ্ঠিত হবে।

চার আসামির মধ্যে খালিদ শেখ মোহাম্মদ ছাড়াও রয়েছেন ওয়ালিদ মুহাম্মদ সালেহ মুবারক বিন আতাশ, মুস্তাফা আহমেদ আদম আল-হাওসাউই এবং আলী আবদুল আজিজ আলী।

দীর্ঘ আইনি জটিলতার পর বিচার শুরুর তারিখ

গুয়ানতানামো বে কারাগারে আটক এই চার আসামিকে ঘিরে বছরের পর বছর ধরে আইনি লড়াই চলছে। মামলাটি নিষ্পত্তিতে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।

সম্প্রতি একটি মার্কিন আপিল আদালত খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার দুই সহযোগীকে দোষ স্বীকারের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে। ওই সমঝোতার আওতায় দোষ স্বীকার করলে তারা মৃত্যুদণ্ড এড়াতে পারতেন।

এর আগে সামরিক বিচারক এবং মার্কিন কোর্ট অব মিলিটারি কমিশন রিভিউ ওই সমঝোতার পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। গত বছর আসামিদের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতার প্রস্তাব করা হয়। পেন্টাগনের গুয়ানতানামো সামরিক আদালতের তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তাও এতে অনুমোদন দিয়েছিলেন।

তবে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন গত আগস্টে ওই চুক্তি বাতিল করেন।

কীভাবে এগোবে বিচার

বিচারক মাইকেল শ্রামার ১১ পৃষ্ঠার আদেশে বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপও নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিচারের শুরুতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হবে। সামরিক বিচারব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী এই প্যানেলই জুরির দায়িত্ব পালন করবে।

প্যানেল গঠনের ৩০ দিন পর রাষ্ট্রপক্ষ তাদের উদ্বোধনী বক্তব্য উপস্থাপন করবে। এরপর প্রসিকিউশন তাদের সাক্ষ্য ও প্রমাণ আদালতে তুলে ধরবে।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রমাণ উপস্থাপন শেষ হলে আসামিপক্ষ অভিযোগ থেকে খালাস চেয়ে আবেদন করতে পারবেন। এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন ও পরস্পরের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

প্রয়োজনে রাষ্ট্রপক্ষকে পুনরায় তাদের মামলা উপস্থাপনের সুযোগও দেওয়া হবে। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন শেষ হওয়ার ৬০ দিন পর আসামিপক্ষ তাদের প্রধান প্রমাণ উপস্থাপন শুরু করবেন। এরপর মামলার শেষ ধাপে সাজা নির্ধারণের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৭ সালে বিচার শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

রাষ্ট্রপক্ষ এর আগে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বিচারক শ্রামা সেই প্রস্তাব নাকচ করেন।

তার মতে, ওই সময়ের মধ্যে বিচার শুরুর আগে প্রয়োজনীয় প্রমাণ এবং অন্যান্য আইনি বিষয়ে করা আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া সম্ভব হবে না।

ফলে বিচার শুরুর জন্য ২০২৮ সালের ৫ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

৯/১১ হামলার অন্যতম আলোচিত আসামি

খালিদ শেখ মোহাম্মদ গুয়ানতানামো বে কারাগারের সবচেয়ে পরিচিত বন্দিদের একজন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালায়।

এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে এবং একটি বিমান পেন্টাগনে আঘাত হানে। হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।

ওই হামলার পরিকল্পনা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। হামলার পর বিদেশি জঙ্গি সন্দেহভাজনদের আটক রাখতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন ২০০২ সালে গুয়ানতানামো বে কারাগার প্রতিষ্ঠা করে।

দুই দশকের বেশি সময় পর মামলাটির বিচার শুরুর জন্য নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত হলেও, এত দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বিচার শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন