মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত স্পিকার

নিউজ ডেস্ক

জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও একে অপরের বক্তব্যে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বর্তমান সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার সময় তিনি বলেন, ‘আমি এ সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। আজকে একে অপরকে কথা বলার সুযোগকে যেভাবে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখেছি, এটা সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ না।’

স্পিকার বলেন, অনেক কষ্টের পর দেশে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। গণতন্ত্র বহাল রাখার দায়িত্ব প্রত্যেক সংসদ সদস্যের রয়েছে। এ জন্য সংসদ সদস্যদের রুলস অব প্রসিডিউর পড়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্পিকার যখন কথা বলেন, তখন সবাইকে বসে তা শুনতে হয়। এসব আইন ও নীতি না মানলে এবং ভঙ্গ করলে সংসদ বেশিদিন চলবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে উত্তেজনা

এদিন কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি প্রশ্নটি বুঝতে পারেননি।

এ সময় তিনি বলেন, ‘স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘যদি কথাই না বলতে দেন, তাহলে কীসের বাকস্বাধীনতা।’

এর পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ওই অংশ এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।

‘উনাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে’

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, তার বক্তব্যে এভাবে মন্তব্য করা হলে সংসদে কথা বলার প্রয়োজন নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুরু থেকেই সংসদে তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘উনি নিজেকে কী মনে করেন। … এটা ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, উনাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।’

‘সংসদ কথা বলার জায়গা’

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সংসদে কথা বলার স্বাধীনতা সবার রয়েছে। একজন সদস্য দাঁড়ালে তার পেছনে অন্যরা দাঁড়িয়ে গিয়ে কথা বলার পরিবেশ নষ্ট করা উচিত নয়।

স্পিকার বলেন, সংসদ হলো কথা বলার জায়গা। যুক্তি দিয়ে একে অপরের বক্তব্য খণ্ডন করা যাবে। তবে কথা বলার স্বাধীনতা যেন কেউ হরণ না করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘শব্দ করে বিচারের বাণীকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাকে সংসদ পরিচালনা করতে দিন।’

‘ধৈর্য ধরুন’

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি জাতীয় সংসদের সঙ্গে রয়েছেন। অতীতেও সংসদে অনেক খারাপ রেকর্ড রয়েছে। তবে অতীতের তুলনায় বর্তমান সংসদকে ভালো সংসদ হিসেবে উল্লেখ করা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, নিজের জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

স্পিকারের সতর্কবার্তার মধ্য দিয়ে এদিন সংসদে সৃষ্ট উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও, সংসদীয় শিষ্টাচার ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন