নিউজ ডেস্ক
আধুনিক জীবনযাত্রায় দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত জাঙ্কফুড এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে লিভারের নানা সমস্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা এখন তরুণদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে।
শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম, পুষ্টি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে লিভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে খাবারের ধরন ও পরিমাণের পাশাপাশি রান্নায় ব্যবহৃত তেলের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আল্-হায়াত হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কনসালটেন্ট ডায়টেসিয়ান ও পুষ্টিবিদ মোহাম্মদ আরিফ ইকবাল বলেন, ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল তুলনামূলক ভালো বিকল্প।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অলিভ অয়েলে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারে চর্বি জমা কমাতে এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
সয়াবিন ও ক্যানোলা তেলও পরিমিতভাবে
পুষ্টিবিদ আরিফের মতে, সয়াবিন তেল ও ক্যানোলা তেলও পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব তেলে তুলনামূলকভাবে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম থাকায় সঠিক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে।
অন্যদিকে সরিষা, নারিকেল ও পাম তেল অতিরিক্ত ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত তেল অতিরিক্ত গ্রহণ সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে লিভারের চর্বি ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য অনুকূল নাও হতে পারে।
শুধু তেল বদলালেই হবে না
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শুধু রান্নার তেল পরিবর্তন করাই যথেষ্ট নয়। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার কমানো, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
পুষ্টিবিদ আরিফ নিয়মিত হাঁটা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয়, ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
মনে রাখা ভালো: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারও লিভারে চর্বি জমার কারণ, ওজন, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ওপর খাদ্য পরিকল্পনা নির্ভর করে। তাই রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা সবচেয়ে নিরাপদ।

