নেপালে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দেশটিতে বন্যা ও নদীর পানির স্রোতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এ সংখ্যা জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩৪টি মরদেহ ও মানবদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানিতে সৃষ্ট বন্যায় নেপালের বেশ কয়েকটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দুর্গত মানুষের কাছে খাবার, পানি ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকারি সংস্থা, উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন।
সাম্প্রতিক এই বন্যাকে নেপালের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
নিখোঁজ শত শত বিদেশি নাগরিক
বন্যায় বিদেশি নাগরিকদেরও অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও ৩২০ জন বিদেশি নাগরিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
উদ্ধার হওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভারতের ১৬৭ জন, চীনের ৪০ জন, ইউক্রেনের ৮ জন, জার্মানির ৪ জন, মাল্টার ৪ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৩ জন রয়েছেন।
এ ছাড়া ইতালি, রাশিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড ও তুরস্কের ২ জন করে নাগরিক উদ্ধার হয়েছেন। বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ওমান ও পর্তুগালের একজন করে নাগরিকও উদ্ধার হয়েছেন। আরও ২১ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সন্ধানেও উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় নিখোঁজদের অবস্থান নিশ্চিত করতে সময় লাগছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

