রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

অনির্দিষ্টকালের জন্য হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, ক্ষতির মুখে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

নিউজ ডেস্ক

ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতার জেরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে পণ্য বাণিজ্য বন্ধ রেখেছে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।

পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় হিলি বন্দর পিছিয়ে পড়া এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত শনিবার রাতে ভারতীয় রপ্তানিকারক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র মণ্ডলের স্বাক্ষর করা একটি চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি বাংলাদেশের বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে জানানো হয়।

কেন বন্ধ হলো বাণিজ্য?

চিঠিতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় বিভিন্ন কারণে হিলি স্থলবন্দর পিছিয়ে রয়েছে। ভারত থেকে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্য স্থলবন্দরগুলোর তুলনায় হিলিতে বৈষম্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

এর ফলে হিলি দিয়ে রপ্তানির পরিমাণ কমে গেছে বলে দাবি করে সংগঠনটি। সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় এক্সপোর্টার্স ও আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ীদের কার্যনির্বাহী কমিটির যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন মণ্ডল বলেন, ভারতীয় সংগঠনের পাঠানো চিঠির মাধ্যমেই তারা আমদানি-রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কিছু সমস্যার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হলেও এর প্রভাব বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ওপর পড়বে। দ্রুত বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

পচনশীল পণ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা

হঠাৎ বাণিজ্য বন্ধের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পচনশীল পণ্য নিয়ে। হিলি ও আশপাশের এলাকায় দুই দেশের সীমান্তের উভয় পাশে কিছু পণ্য ট্রাকে বোঝাই অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসব পণ্য নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারলে পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ইতোমধ্যে এলসির মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করা বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক রেজা আহমেদ বিপুল বলেন, হঠাৎ আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ওপারে ট্রাকে থাকা পচনশীল পণ্যগুলো বন্দরে প্রবেশ করতে না পারলে আমদানিকারকদের বড় ক্ষতি হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন বন্দর বন্ধ থাকলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, বন্দরের শত শত শ্রমিকও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় ও জাতীয় বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক

আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া জানান, বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও যাত্রী পারাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা কিছুটা কম হতে পারে।

তিনি বলেন, বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের নির্বিঘ্নে পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন