মাযহাব অস্বীকার করে দ্বীনের গভীর ও সুসংহত জ্ঞান অর্জনের পথকে উপেক্ষা করা বিপজ্জনক প্রবণতা বলে মন্তব্য করেছেন ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ও বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর আমীর আলহাজ হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন।
তিনি বলেন, কুরআন-সুন্নাহর বিধান ব্যক্তিগত খেয়াল বা সীমিত জ্ঞানের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। ইসলামের বিধান সঠিকভাবে বুঝতে যোগ্য আলেম, ফকিহ ও মুজতাহিদ ইমামদের ব্যাখ্যা ও গবেষণার ওপর নির্ভর করা প্রয়োজন।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর মহাখালী টিবি গেট এলাকার গাউসুল আজম কমপ্লেক্সে তিন দিনব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাযহাব নিয়ে বিভেদ না করার আহ্বান
ছারছীনা পীর বলেন, মাযহাব ও তাকলিদের বিষয়টি ইসলামী জ্ঞানচর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম মালেক (রহ.), ইমাম শাফেয়ি (রহ.) ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) কুরআন-সুন্নাহর দলিল, সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং গভীর ফিকহি গবেষণার ভিত্তিতে দ্বীনি বিধান অনুধাবনের পথ দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন, চার ইমামের সবাই হাদিস ও ফিকহের জ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন। তাই মাযহাব অস্বীকার করা কিংবা মাযহাব অনুসরণকারী মুসলমানদের হেয় করা গ্রহণযোগ্য নয়।
মাযহাববিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা কথিত সহিহ হাদিসের অনুসরণের কথা বলে মাযহাবকে অস্বীকার করেন, তাদের অনুসৃত বর্ণনাকারীদের অনেকেই নিজেদের সময়ে মুজতাহিদ অথবা মুকাল্লিদ ছিলেন। এ বিষয়ে মুসলমানদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জ্ঞান নিয়ে সতর্কতা
মাওলানা নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন বলেন, শুধু কুরআন-হাদিসের নাম উচ্চারণ করে নিজের মতো করে ইসলামী বিধানের ব্যাখ্যা দেওয়া দ্বীনের খেদমত নয়।
তিনি বলেন, ফিকহ, আরবি ভাষা, হাদিসের বিভিন্ন স্তর, নাসিখ-মানসুখ, আম-খাস, মুতলাক-মুকাইয়্যাদসহ শরিয়তের বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া বিধান নির্ধারণ করা ঠিক নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও বা অনুবাদ দেখে নিজেকে ফকিহ মনে করার প্রবণতা থেকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
মাযহাবের ইজতিহাদি মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজে বিভেদ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দ্বীনের বিষয়ে আবেগের পরিবর্তে বিজ্ঞ আলেমদের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে মাযহাব নিয়ে অযথা বিতর্ক ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে না দিয়ে আমল-আখলাক সংশোধন এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন গঠনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।
মাহফিলে বিভিন্ন আলেমের বক্তব্য
বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ হযরত মাওলানা হাফেজ শাহ্ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ, ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়ার নায়েবে মুদীর মাওলানা মো. মামুনুল হক, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মো. হেমায়েত বিন তৈয়্যেব এবং মাওলানা মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ছারছীনা পীর। মোনাজাতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।

