মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

বিগত সময়ে গুমের শিকার হয়ে প্রতিটি মুহূর্ত মৃত্যুর আশঙ্কায় কাটাতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সময়ে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদেরও চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তারা প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যুর প্রহর গুনেছেন এবং অপেক্ষা করেছেন কখন তাদের ভাগ্যে কী ঘটে। তাদের পরিবারের সদস্যরা কীভাবে সেই সময় পার করেছেন, তা ভুক্তভোগী ও স্বজনদের বাইরে অন্য কারও পক্ষে পুরোপুরি উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গুমের শিকার ইলিয়াস আলীর স্ত্রী কিংবা সুমনের মায়ের মানসিক পরিস্থিতি বোঝা কঠিন। একইভাবে তাঁর নিজের স্ত্রী-সন্তানদের ওপর দিয়ে কী পরিস্থিতি গেছে, সেটিও অন্যদের পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

গুমের পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ৭০৯ জন গুমের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১৫৫ জন পরবর্তী সময়ে ফিরে এসেছেন।

তিনি জানান, পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গুমের বিষয়ে ১ হাজার ৮৫০টি আবেদন জমা পড়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে গুম ও হত্যার মতো কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রিগেডিয়ার আযমীর মতো অনেকে ফিরে এলেও তাদের পরিবারের সদস্যদের সবাইকে ফিরে পাননি।

জুলাইয়ের নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন হিসাব

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রাণহানির প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দুই হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে এবং অনেকের লাশ গায়েব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। তবে তাদের নিজস্ব হিসাবে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বহু লাশ গায়েব ও পুড়িয়ে ফেলার কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড ও গুম-খুনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দলটির রাজনৈতিক মৃত্যু ঢাকায় হয়েছে, আর এর দাফন হয়েছে দিল্লিতে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন