পানি পান করার পর প্লাস্টিকের বোতল ফেলে না দিয়ে আবার তাতে পানি ভরে ব্যবহার করা অনেকেরই অভ্যাস। খরচ কমানো কিংবা প্লাস্টিকের অপচয় কমানোর জন্য অনেকে একই বোতল একাধিকবার ব্যবহার করেন। তবে প্রশ্ন হলো, একবার ব্যবহারের জন্য তৈরি প্লাস্টিকের বোতল বারবার ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যের কোনো ঝুঁকি তৈরি হয় কি না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিষ্কার ও অক্ষত প্লাস্টিকের বোতলে নিরাপদ পানি একবার বা মাঝে মাঝে পুনরায় ভরে পান করলে সাধারণত বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম। তবে বোতলের ভেতরে বা বাইরে আঁচড়, ফাটল কিংবা ক্ষত তৈরি হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ খাদ্য-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অ্যাশলি সি. মিলারের মতে, ক্ষতিহীন ও পরিষ্কার বোতলে নিরাপদ পানীয় পানি পুনরায় ব্যবহার করা সাধারণত বড় ধরনের খাদ্য-নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে না। তবে আঁচড় বা খাঁজযুক্ত স্থানে জীবাণু জমতে পারে। এসব অংশ পরিষ্কার করাও তুলনামূলক কঠিন। ফলে সেখানে জীবাণুর স্তর তৈরি হয়ে শুধু পানি দিয়ে ধুলে তা পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে।
পানি ছাড়া অন্য পানীয় ব্যবহারে ঝুঁকি বেশি
একবারের প্লাস্টিকের বোতলে পানি পুনরায় ভরার তুলনায় দুধ, জুস কিংবা কোমল পানীয় রাখা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
নেভাডা বিশ্ববিদ্যালয়, লাস ভেগাসের মহামারি ও জীবপরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ব্রায়ান ল্যাবাস বলেন, চিনি সমৃদ্ধ পানীয় জীবাণুর বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বোতলের ভেতরে বা ঢাকনার আশপাশে এসব পানীয়ের অবশিষ্টাংশ থাকলে জীবাণু দ্রুত বাড়তে পারে।
দুধ বা জুসের মতো পচনশীল পানীয় বোতলে ভরে দীর্ঘ সময় রেখে দিলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। উষ্ণ পরিবেশে এ ধরনের পানীয় সংরক্ষণ করা হলে জীবাণুর বৃদ্ধি দ্রুত হতে পারে।
বোতল ও হাত পরিষ্কার রাখা জরুরি
একই বোতল ব্যবহার করার ক্ষেত্রে শুধু বোতল পরিষ্কার রাখলেই যথেষ্ট নয়। বোতল ধরার আগে হাত পরিষ্কার করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মুখ দিয়ে পানি পান করার সময় মুখের জীবাণু বোতলের মুখ ও ভেতরে যেতে পারে। একইভাবে অপরিষ্কার হাত থেকেও ঢাকনা ও বোতলের মুখে জীবাণু ছড়াতে পারে।
আর্দ্রতা, উষ্ণতা, খাবারের অবশিষ্টাংশ ও দীর্ঘ সময়ের উপস্থিতিতে জীবাণু দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। তাই বোতল ও হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করা জীবাণুর ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বোতলে ক্ষতি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ
একবার ব্যবহারের জন্য তৈরি অনেক প্লাস্টিকের বোতল পলিইথিলিন টেরেফথালেট বা পিইটি দিয়ে তৈরি। এগুলো দীর্ঘদিনের ব্যবহার ও নিয়মিত ঘষামাজার জন্য তৈরি নয়। ফলে বোতলে ফাটল, গভীর আঁচড়, বিকৃতি বা অন্য কোনো ক্ষতির চিহ্ন দেখা দিলে সেটি আর ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
সব মিলিয়ে, একবারের প্লাস্টিকের বোতলে পরিষ্কার পানি মাঝে মাঝে পুনরায় ব্যবহার করাকে সবসময় বিপজ্জনক বলা যায় না। তবে নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পানি ছাড়া অন্য পানীয় দীর্ঘ সময় না রাখা এবং বোতল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পরিবর্তন করাই নিরাপদ অভ্যাস।

