সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইরানে পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক

প্রচলিত সামরিক উপায়ে ইরানকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্ট। সম্প্রতি পডকাস্টার টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জো কেন্টের মতে, ইরান সংকটে ট্রাম্প প্রশাসন এখন বের হওয়ার পথ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রচলিত সামরিক শক্তি ব্যবহার করেও যদি ইরান সরকারকে উৎখাত বা দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা না যায়, তাহলে ওয়াশিংটনের সামনে কঠিন কিছু বিকল্প তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, ইরানের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে বড় পরিসরে স্থলসেনা পাঠিয়ে যুদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়। এ পরিস্থিতিতে ইরানের পাহাড়ের ভেতরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সীমিত পরিসরে পারমাণবিক হামলার মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চনির্ভুল অস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে গত মাসের শেষ দিকে ইরানের ওপর সর্বশেষ দফার মার্কিন হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

জো কেন্ট এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্রের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি তখনও বলেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো ‘আসন্ন হুমকি’ ছিল না।

এদিকে ইরানের ওপর সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তেহরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে জো কেন্টের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নীতির ঘোষণা নয়; এটি একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে করা আশঙ্কা। বর্তমানে ইরানে পারমাণবিক হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।

 

সূত্র: আরটি

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন