সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নেপালে বন্যায় নিহত ৯০০ ছাড়ালো, নিখোঁজ ৪৭০০

নিউজ ডেস্ক

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ। দুর্যোগের চতুর্থ দিনে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, নদী ও জনবসতিতে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, পাহাড়, নদী ও জনবসতিতে আটকে থাকা মানুষদের শনাক্ত করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে স্থানীয় বাহিনীর পাশাপাশি বিদেশি উদ্ধারকারী দলও কাজ করছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সোমবারের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে বন্যায় ৯০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক।

অন্যদিকে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতে বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশির সংখ্যা ২৬১ জন। তাদের মধ্যে শতাধিক নেপালি নাগরিক রয়েছেন।

সুড়ঙ্গে আটকা ৯০ শ্রমিক

বন্যার পর সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার। কর্মকর্তাদের হিসাবে, এসব প্রকল্পের সুড়ঙ্গে অন্তত ৯০ জন শ্রমিক আটকা রয়েছেন।

তাদের উদ্ধারে স্থানীয় উদ্ধারকারীদের পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়া এবং বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ জমে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

হিমবাহ ধস থেকেই ভয়াবহ বন্যা

গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলের উচ্চভূমিতে একটি হিমবাহ ধসে পড়ার পর এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হিমবাহের নিচে থাকা পাহাড়ি শিলাস্তরের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এর সঙ্গে হিমবাহের একটি অংশও নিচে নেমে আসে।

শিলাধসের মাত্রা এতটাই বড় ছিল যে সেটি ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূকম্পন হিসেবে রেকর্ড করা হয়। পরে বিপুল পরিমাণ পাথর ও গলিত বরফ নিচের উপত্যকার নদীগুলোতে গিয়ে পড়ে। এতে নদীর পানির প্রবাহ আকস্মিকভাবে বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ স্রোতের সৃষ্টি হয়।

প্রচণ্ড সেই স্রোতে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভবন, সেতু, সড়ক এবং মাটির বিশাল অংশ ভেসে যায়। বহু জনবসতি এখন কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে আছে।

বাড়ছে নতুন বন্যার শঙ্কা

দুর্যোগের পর থেকেই নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, সরু উপত্যকা এবং ধসে পড়া সড়ক ও সেতুর কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোকে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাতেও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এর মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বতের বহু এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গত অঞ্চলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির নতুন চিত্র সামনে আসছে। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন