রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

পিসির সুরক্ষার জন্য কখন লাগবে আলাদা অ্যান্টিভাইরাস?

নিউজ ডেস্ক

সাইবার হামলা ও তথ্য চুরির ঘটনা বাড়তে থাকায় ব্যক্তিগত ডেটার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। এ কারণে অনেক ব্যবহারকারী পিসিতে আলাদা অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইনস্টল করেন। তবে বর্তমানে উইন্ডোজ ১০ ও ১১-এর সঙ্গে থাকা ‘উইন্ডোজ সিকিউরিটি’ সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিতে পারে।

কী কী সুরক্ষা দেয় উইন্ডোজ সিকিউরিটি?

উইন্ডোজ সিকিউরিটি মূলত উইন্ডোজের বিভিন্ন নিরাপত্তা ফিচার নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা। এর ‘ভাইরাস অ্যান্ড থ্রেট প্রোটেকশন’ অংশে ম্যালওয়্যার শনাক্তকরণ, স্ক্যান এবং রিয়েল-টাইম সুরক্ষার সুবিধা রয়েছে।

এ ছাড়া এতে রয়েছে—

ফায়ারওয়াল অ্যান্ড নেটওয়ার্ক প্রোটেকশন—অননুমোদিত নেটওয়ার্ক যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
অ্যাপ অ্যান্ড ব্রাউজার কন্ট্রোল—ক্ষতিকর অ্যাপ, ডাউনলোড ও ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।
অ্যাকাউন্ট প্রোটেকশন—সাইন-ইন ও পরিচয়-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা করে।
ডিভাইস সিকিউরিটি—সিকিউর বুট, টিপিএম ও কোর আইসোলেশনের মতো হার্ডওয়্যারভিত্তিক নিরাপত্তা সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করে।
ডিভাইস পারফরম্যান্স অ্যান্ড হেলথ—কম্পিউটারের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক অবস্থার তথ্য জানায়।
সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য কি যথেষ্ট?

বেশিরভাগ সাধারণ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে আলাদা অ্যান্টিভাইরাস ছাড়াই উইন্ডোজ সিকিউরিটি যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে পারে। তবে এজন্য উইন্ডোজ নিয়মিত আপডেট রাখা, সন্দেহজনক সফটওয়্যার এড়িয়ে চলা এবং অপরিচিত ওয়েবসাইট বা লিংকে ক্লিক না করার মতো সতর্কতা জরুরি।

বিশেষ করে নিরাপত্তা আপডেটগুলো নিয়মিত ইনস্টল করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে নতুন ধরনের ম্যালওয়্যার ও সাইবার হুমকি মোকাবিলায় উইন্ডোজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হালনাগাদ থাকে।

তবে মনে রাখতে হবে, কোনো অ্যান্টিভাইরাসই শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। ফিশিং ই-মেইল, ভুয়া ওয়েবসাইট, প্রতারণামূলক লিংক কিংবা ব্যবহারকারীর অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা হামলা চালাতে পারে।

কখন তৃতীয় পক্ষের অ্যান্টিভাইরাস প্রয়োজন?

যারা নিয়মিত অজানা উৎস থেকে সফটওয়্যার বা ফাইল ডাউনলোড করেন, একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করেন অথবা বাড়তি নিরাপত্তা সুবিধা চান, তাদের জন্য তৃতীয় পক্ষের নিরাপত্তা সফটওয়্যার বিবেচনা করা যেতে পারে।

অনেক সিকিউরিটি স্যুটে উন্নত ফিশিং প্রতিরোধ, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, ভিপিএন, পরিচয় সুরক্ষা এবং একাধিক ডিভাইস ব্যবস্থাপনার মতো অতিরিক্ত সুবিধা থাকে।

সারকথা, সাধারণ ও সতর্ক ব্যবহারকারীর জন্য উইন্ডোজের বিল্ট-ইন ‘উইন্ডোজ সিকিউরিটি’ অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট। তবে অনলাইন কার্যক্রমের ধরন ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হতে পারে। অ্যান্টিভাইরাসের পাশাপাশি সচেতন ব্যবহারই ব্যক্তিগত তথ্য ও ডেটা সুরক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন