মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের পাশে থাকবে আইপিইউ

নিউজ ডেস্ক

গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে জাতীয় সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী ও তরুণ সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্য দেন।

নারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নেতিবাচক সামাজিক রীতি, কুসংস্কার ও অনলাইন বিদ্বেষসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় নারীদের। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইপিইউ কার্যকর কিছু ব্যবস্থা তৈরি করেছে।

সংসদে নারী সদস্যদের মধ্যে সংহতি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশের নারী সংসদ সদস্যদের আইপিইউর নারী ফোরাম, জাতিসংঘবিষয়ক স্থায়ী কমিটি এবং অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, সংসদ এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জায়গা, যেখানে বিভিন্ন জাতিগত ও সামাজিক সম্প্রদায়ের মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা প্রয়োজন।

গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণদের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুনর্মিলন ও ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের পাশাপাশি নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৪০ জন নারী সংসদ সদস্য অংশ নেন এবং তাদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার কথা জানান স্পিকার।

তিনি বলেন, আইপিইউর প্রতিনিধিদল জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার সংসদ সদস্য, তাদের পরিবার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

স্পিকার আরও বলেন, এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য না করে আইপিইউর প্রতিনিধিদলকে ঘটনাগুলো সরাসরি দেখার এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন নিরপেক্ষ ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য জানার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এরপর বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।

পূর্ববর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেন স্পিকার। তিনি আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রতিনিধিদলকে প্রতিবেদনটি পড়ার অনুরোধ জানান। তার ভাষ্য, এটি জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্বাধীন প্রতিবেদন এবং এটি প্রণয়ন বা প্রকাশে জাতীয় সংসদের কোনো ভূমিকা ছিল না।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তরুণদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা ত্যাগ ও কষ্ট সহ্য করেছে।

মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, তাহসিনা রুশদী, আখতার হোসেন, সানসিলা জেবরিন, মানসুরা আক্তার, সানজিদা ইয়াসমিন, মাধবী মার্মা, মারদিয়া মমতাজ ও নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতিসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

তারা পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরেন। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন