মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশকে যুক্ত হওয়ার কোনো প্রস্তাব দেওয়া হলে তা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের চলমান পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যেকোনো বহুপাক্ষিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আগে ওই সিদ্ধান্তে দেশের জনগণের কী ধরনের সুবিধা হবে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সফররত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব আন্দা ফিলিপের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ পায়নি। তবে ভবিষ্যতে কোনো প্রস্তাব এলে সেটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, কোনো বহুপাক্ষিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির আলোকে বিষয়টি যাচাই করা হবে। প্রস্তাব গ্রহণের ফলে দেশের মানুষের কী লাভ হবে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রয়োজনীয় সময় নিয়ে পর্যালোচনা শেষে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হবে।
আইপিইউর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ
আইপিইউ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠককে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, আইপিইউ বিশ্বের ৯৩টি দেশের সংসদকে নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংসদীয় সংস্থা। বাংলাদেশও এই ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ আবার সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি আইপিইউ মহাসচিব পর্যবেক্ষণ করছেন। এরই মধ্যে তিনি সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছেন। তিনি জুলাই জাদুঘরও পরিদর্শন করেছেন।
বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরায় কার্যকর ও শক্তিশালী অবস্থায় ফিরে আসার বিষয়টিকে আইপিইউ মহাসচিব ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে জানান শামা ওবায়েদ। বিশেষ করে বর্তমান সংসদে তুলনামূলকভাবে তরুণ ও নতুন সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।
সংসদ সদস্যদের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আলোচনা
বৈঠকে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, সংসদ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আইপিইউর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কর্মসূচি রয়েছে। জেনেভাসহ বিভিন্ন স্থানে এসব কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সংসদীয় কার্যক্রমে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়লে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রও আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করতে আইপিইউর সঙ্গে সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে সরকারের আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মানবাধিকার ও নারী ক্ষমতায়নেও সহযোগিতা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইপিইউর কার্যক্রম শুধু গণতন্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানবাধিকার, শান্তি, স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), নারী ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সংস্থাটি কাজ করে।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে আইপিইউর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
আগামী মাসে তানজানিয়ায় আইপিইউর একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সেখানে বাংলাদেশের স্পিকার ও সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন। ওই সম্মেলনসহ আইপিইউর বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সরকার আগ্রহী। সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক এই সংসদীয় সংস্থার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

