রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

অনুকূল পরিবেশে তারেক রহমানের ভারত সফর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বোয়িং বিমান কেনার কোনো চাপ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, দেশের বিমান খাতের প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করেই বিমান বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, কোনো চাপের কারণে নয়, বিমান খাতের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনমতো বিমান কেনা হবে।

তিনি বলেন, এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে আরও বেশি আন্তর্জাতিক রুটে সেবা দিতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিমান বহর আরও বড় করা প্রয়োজন। বহর ও রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান চলাচলের কেন্দ্রে পরিণত করার সুযোগ তৈরি হবে।

বড় বিমান সংস্থাগুলোর প্রবৃদ্ধির উদাহরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বহর বাড়ানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বহর বৃদ্ধি নতুন রুট চালু ও বিমান চলাচলের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর জানিয়েছিলেন, ঢাকা-ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন একটি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত বোয়িং বিমান কেনার জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি বিমান কেনার চুক্তি সই হয়। প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তিকে বিমান বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিমান কেনার চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এখনো সফরের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। দুই দেশের অনুকূল পরিবেশ এবং উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচির ওপর সফরের সময় নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে ভারতকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার কথা

বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনায় বাংলাদেশ যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়।

ভারতের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আশা করে ভারত তার ভূখণ্ড বা সার্বভৌম স্থান কোনো বাংলাদেশি সন্ত্রাসী কিংবা চরমপন্থী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে দেবে না। এ ক্ষেত্রে ভারত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন