রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

কিয়ামতের আগে হজরত ঈসাকে (আ.) চেনার যে উপায় বলে দিয়েছেন মহানবী (সা.)

নিউজ ডেস্ক

হজরত ঈসা (আ.) ছিলেন মহান আল্লাহর প্রেরিত নবী। বনী ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত নবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে বিশেষ নিদর্শন হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর জন্মও ছিল অলৌকিক। পিতা ছাড়াই হজরত মারইয়াম (আ.)-এর গর্ভে তাঁর জন্ম হয়। এমনকি শৈশবে দোলনায় থাকা অবস্থায়ও তিনি কথা বলেছিলেন।

কোরআনে হজরত ঈসা (আ.)

হজরত ঈসা (আ.)-এর অলৌকিক জন্মের কারণে তাঁর মা হজরত মারইয়াম (আ.)-কে নিয়ে নানা অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহর নির্দেশে শিশু ঈসা (আ.) দোলনায় থাকা অবস্থায় কথা বলে মায়ের পবিত্রতার পক্ষে সাক্ষ্য দেন।

পবিত্র কোরআনে তাঁর বক্তব্য এভাবে এসেছে—

‘নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা; তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। যেখানেই আমি থাকি না কেন, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি ততদিন নামাজ ও জাকাত আদায় করতে। আর আমাকে আমার মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে দাম্ভিক, হতভাগ্য করেননি।’

এরপর বলা হয়েছে—

‘আমার প্রতি শান্তি, যেদিন আমি জন্ম লাভ করেছি, যেদিন আমার মৃত্যু হবে এবং যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব।’

সূরা মারইয়ামের ৩০ থেকে ৩৪ নম্বর আয়াতে হজরত ঈসা (আ.)-এর এই বক্তব্য এবং তাঁর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

পরিণত বয়সে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে নবুয়ত দান করেন। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর পথে চলার আহ্বান জানান। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে বিভিন্ন মুজিজাও দেওয়া হয়েছিল। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেন।

কিয়ামতের আগে পৃথিবীতে ফিরবেন

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, কিয়ামতের আগে হজরত ঈসা (আ.) আবার পৃথিবীতে অবতরণ করবেন। হাদিসে তাঁর এই আগমনকে কিয়ামতের বড় আলামতগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হজরত হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের আগে সংঘটিত হওয়ার ১০টি বড় আলামতের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ধোঁয়া, দাজ্জালের আবির্ভাব, দাব্বাতুল আরদের আগমন, পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয়, হজরত ঈসা (আ.)-এর আগমন, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস। সর্বশেষে ইয়ামান থেকে আগুন বের হয়ে মানুষকে সিরিয়ার দিকে নিয়ে যাবে বলেও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

সূত্র: সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ফিতান।

কীভাবে চেনা যাবে ঈসা (আ.)-কে

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত ঈসা (আ.)-এর শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও বর্ণনা দিয়েছেন।

হাদিসে বলা হয়েছে, তাঁর ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মধ্যে কোনো নবী নেই। তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করবেন। তাঁকে মাঝারি উচ্চতার এবং লাল-সাদা বর্ণের মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর মাথার চুল এমন হবে যে, ভেজা না থাকলেও তা থেকে পানির ফোঁটা ঝরছে বলে মনে হবে।

অবতরণের পর কী করবেন

সুনানে আবু দাউদের একটি হাদিসে হজরত ঈসা (আ.) পৃথিবীতে অবতরণের পর তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি ক্রুশ ভেঙে দেবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং জিজিয়া রহিত করবেন। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন এবং পৃথিবীতে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন।

হাদিসে আরও উল্লেখ রয়েছে, হজরত ঈসা (আ.) পৃথিবীতে ৪০ বছর অবস্থান করবেন। এরপর তাঁর মৃত্যু হবে এবং মুসলমানরা তাঁর জানাজা পড়বেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন