ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট সংকট নিরসনে কূটনীতিকেই একমাত্র টেকসই পথ বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। সংকট সমাধানে মধ্যস্থতা ও সমঝোতার উদ্যোগে পাকিস্তান নিজেদের ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
শাহবাজ শরীফ বলেন, এসসিওর সদস্য ইরান চলতি বছরের শুরুতে হামলার শিকার হয়েছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
এই সংকটের প্রভাব শুধু অঞ্চলটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবহনপথ বন্ধ ও বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশও এর নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছে।
পাকিস্তান শান্তির পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে শাহবাজ বলেন, সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা এবং আন্তরিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে ইসলামাবাদ। তার মতে, চলমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হলো কূটনীতি।
একই সঙ্গে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক ও চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চুক্তিটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়।
শাহবাজ শরীফের ভাষ্য, আঞ্চলিক বিভাজন বা সংঘাত সৃষ্টি করা এই চুক্তির উদ্দেশ্য নয়।
গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে উদ্বেগ
এদিকে গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শাহবাজ শরীফ বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

