রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আল্লাহর দরজা সবার জন্য সব সময় খোলা

নিউজ ডেস্ক

গুনাহ মানুষের স্বভাবের অংশ। ভুল-ত্রুটি ও অপরাধে মানুষ জড়িয়ে পড়তে পারে। তবে মহান আল্লাহর অন্যতম গুণ হলো ক্ষমা করা। বান্দা যখন নিজের ভুল উপলব্ধি করে আন্তরিকভাবে তাঁর কাছে ফিরে আসে, অনুতপ্ত হয় এবং গুনাহ থেকে নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করে, তখন আল্লাহর রহমতের দরজা তার জন্য উন্মুক্ত থাকে।

তবে তওবার জন্য আন্তরিকতা অপরিহার্য। গুনাহ হয়ে যাওয়ার পর বিলম্ব না করে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। নিজের কাজের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে এবং ভবিষ্যতে সেই অপরাধে আর ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কেউ যদি অজ্ঞতাবশত কোনো খারাপ কাজ করে বসে, তারপর তওবা করে ও নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তাহলে তিনি তাকে মাফ করে দেন এবং নরম নীতি অবলম্বন করেন, এটি তাঁর দয়া ও অনুগ্রহেরই প্রকাশ।’ (সুরা আনআম, আয়াত ৫৪)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, মানুষ ভুল করে গুনাহে জড়িয়ে পড়লেও তার জন্য আল্লাহর রহমতের দরজা বন্ধ হয়ে যায় না। বরং খাঁটি অন্তরে তওবা করে নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করলে ক্ষমার আশা করা যায়। মহান আল্লাহ পরম দয়ালু ও মেহেরবান। বান্দা যখন নিজের অপরাধ স্বীকার করে তাঁর কাছে ফিরে আসে, তখন তিনি তাকে ক্ষমা করতে ভালোবাসেন।

তওবার পর ক্ষমার সুসংবাদ

পবিত্র কোরআনের আরেক আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর যারা মন্দ কাজ করে, তারপর তওবা করে নেয় এবং ইমান আনে, তবে নিশ্চয়ই তোমার পরওয়ারদিগার তওবার পর অবশ্য ক্ষমাকারী, করুণাময়।’ (সুরা আরাফ, আয়াত ১৫৩)

অর্থাৎ গুনাহের পর অনুতপ্ত হয়ে তওবা করা এবং ঈমানের পথে ফিরে আসা মানুষের জন্য আল্লাহর ক্ষমার সুসংবাদ রয়েছে। হাদিসেও তওবার মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে বহু বর্ণনা পাওয়া যায়। একটি হাদিসে এসেছে, গুনাহ থেকে তওবাকারী এমন ব্যক্তির মতো, যার কোনো গুনাহ নেই। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, সব মানুষই গুনাহ করে; আর গুনাহগারদের মধ্যে উত্তম তারা, যারা তওবা করে।

গুনাহকে অভ্যাসে পরিণত করা নয়

আল্লাহর ক্ষমার অর্থ এই নয় যে মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে বারবার গুনাহ করবে আর তওবার ওপর নির্ভর করবে। বরং সত্যিকারের তওবার অন্যতম শর্ত হলো গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘এ কথা জেনে রাখো, আল্লাহর কাছে তওবা কবুল হওয়ার অধিকার একমাত্র তারাই লাভ করে, যারা অজ্ঞতার কারণে কোনো খারাপ কাজ করে বসে এবং তারপর দ্রুত তওবা করে। এ ধরনের লোকদের প্রতি আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহের দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন। এবং আল্লাহ সব বিষয়ে খবর রাখেন, তিনি জ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ।’ (সুরা নিসা, আয়াত ১৭)

তাই গুনাহের পর তওবা করতে দেরি করা উচিত নয়। কেউ জীবনে বহুবার ভুল করে থাকলেও আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়ার সুযোগ নেই। বরং অপরাধের পর হতাশ না হয়ে অনুতপ্ত হৃদয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসাই মুমিনের করণীয়।

আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না

গুনাহ করার পর অনেকে মনে করেন, এত অপরাধের পর আর ক্ষমা পাওয়া সম্ভব নয়। এই হতাশা মানুষকে তওবা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেয়। অথচ পবিত্র কোরআনে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হতে নিষেধ করা হয়েছে।

সন্তান ভুল করার পর অনুতপ্ত হয়ে পিতা-মাতার কাছে ক্ষমা চাইলে তারা যেমন তাকে ক্ষমা করতে চান, মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি তার চেয়েও অসীম দয়ালু। তাই বান্দার উচিত অপরাধের পর পালিয়ে না গিয়ে আল্লাহর দরবারে ফিরে আসা।

তওবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটি সময়ের অপেক্ষা করা উচিত নয়। আজই, এখনই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়। গুনাহ ছেড়ে দিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সংকল্প করা যায়।

বেশি বেশি তওবার শিক্ষা

তওবার গুরুত্ব বোঝাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও বেশি বেশি ইস্তিগফার ও তওবা করতেন। তিনি বলেছেন, ‘হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো এবং গুনাহ মাফ চাও। কারণ আমি দিনে ১০০ বার তওবা করি।’ (মুসলিম)

মহানবী (সা.) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও যদি প্রতিদিন এত বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করেন, তাহলে আমাদের মতো গুনাহগার মানুষের জন্য তওবার প্রয়োজন কত বেশি—তা সহজেই উপলব্ধি করা যায়।

তাই গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে মহান আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হবে। আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে, গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে একই অপরাধে না জড়ানোর দৃঢ় সংকল্প করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন