নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার জরুরি অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ঢাকা ও কাঠমান্ডুর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় দুর্যোগকবলিত নেপালের মানুষের পাশে দাঁড়াতেই এ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলতি অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দ থেকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অনুদান ছাড়ের জন্য এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বুধবারের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১১৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন।
দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে সীমান্তের ওপারে চীনের অংশেও। সেখানে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভয়াবহ এ দুর্যোগের পর নেপালে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নেপালের পাশে দাঁড়াতে আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ১০ লাখ ডলারের এ অনুদান নেপালের দুর্যোগকবলিত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হবে।

