মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

তিন বছরে বন্ধ চার শতাধিক গার্মেন্টস, তৈরি হচ্ছে তালিকা: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একইসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য রুহুল আমিন জানতে চান, দেশে বর্তমানে কতগুলো তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে, সেগুলোর নামের তালিকা কী, বন্ধ হওয়ার কারণ কী এবং পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সদস্যভুক্ত যথাক্রমে ২৮২টি ও ১২৩টি কারখানাসহ ৪০০টির বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। এসব বন্ধ কারখানার নামের তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে করোনা মহামারির প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব মনিটরিং সুবিধার কারণে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোতে রপ্তানি আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনাগ্রহকেও কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তৈরি পোশাক শিল্পের বাজার ধরে রাখতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুদ্ধ বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা, ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র রপ্তানিকারকদের বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশের অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা দেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতে ০ দশমিক ৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তাও রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

এদিকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজার অভিযান চালানো হচ্ছে। অতিরিক্ত দাম নেওয়া, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা ও অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনও সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং, তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আরও জোরদার করা হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন