বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জেলার সংসদ সদস্যরা এ সিদ্ধান্ত নেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) চ্যানেল ২৪-কে বিষয়টি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত ই জাহান। তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বগুড়ার সব সংসদ সদস্য অংশ নেন। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন গণমাধ্যমকে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে বগুড়ায় যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, এরপর বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। তিনি জানান, খালেদা জিয়া চারবার বগুড়া থেকে নির্বাচন করে প্রতিবারই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন।
মোরশেদ মিলটন একটি নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি এর নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে পুরোনো উদ্যোগ
তথ্যমতে, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিভাগের অনুমোদনও দেওয়া হয়। তবে আইনটি কার্যকর না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত ৭ জুলাই ২০০১ সালের ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ রহিত করা হয়। এর পরিবর্তে জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৬’ বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

