মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি কোনো স্লোগান নয়, একটি পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য সরকারের। এটি কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি পরিকল্পনা বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইআরএলের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক। এটি শুধু একটি লেনদেন নয়, বরং ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখে—এমন একটি বার্তাও বহন করে।

চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, ইআরএল এবং ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

রপ্তানি-বিনিয়োগে অর্থনীতির আকার দ্বিগুণের লক্ষ্য

তারেক রহমান বলেন, নতুন সরকারের নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে এই দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায় সরকার।

বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের উৎপাদন কেন্দ্র ও প্রবেশদ্বারে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পোশাকশিল্প বাংলাদেশের প্রথম প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। এখন ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্প পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে।

সরকার এমন কারখানা চায়, যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এমন কর্মসংস্থান চায়, যা মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করবে বলেও জানান তিনি।

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড চালু

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছে। পাশাপাশি হেলথ কার্ড চালুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক সংকটে অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ কোনো দেশ একা মোকাবিলা করতে পারে না। তাই অংশীদারত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও আইডিবির সহযোগিতায় নতুন পদ্ধতি গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই সহযোগিতা আরও উদ্ভাবনী, সাড়া প্রদানকারী ও ফলাফলভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।

স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান

উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর জন্য স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়নের সুযোগ তৈরিতে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় আইডিবির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সুলায়মান আল জাসেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইসিএফের পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশ এ তহবিল থেকে সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক হাবের সঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

ইআরএল প্রকল্পকে জ্বালানি নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বললেন প্রধানমন্ত্রী

ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পকে শুধু জ্বালানি খাতের একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে চান না প্রধানমন্ত্রী। তিনি এটিকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সক্ষমতায় বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে এবং আস্থাভিত্তিক ও ফলাফলমুখী অংশীদারত্বের একটি উদাহরণ তৈরি করবে।

আইডিবিকে মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দক্ষতা ও সক্ষমতার পারস্পরিক বিনিময়ে ব্যাংকটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে।

আইডিবির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সুলায়মান আল জাসেরের বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়ে তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও আইডিবির অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হয়ে বাংলাদেশের জনগণ ও বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন