গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে শুধু আন্দোলন ও কর্মসূচি না দিয়ে বিরোধী দলগুলোকে বিকল্প পরিকল্পনা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের কর্মসূচি ও সরকারের সমালোচনা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে সমালোচনার পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাও দিতে হবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিরোধী দল চাইলে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে লংমার্চ বা বিভিন্ন কর্মসূচি দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে কীভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব, কোথা থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা যাবে এবং সংকট মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—এসব বিষয়ে বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের পেছনে বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতাও ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে সংকট তৈরি হয়েছে।
রিজভীর ভাষ্য, ‘আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ করছে, এর দায় কি বাংলাদেশের সরকারের? তা তো নয়।’ জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা, শিল্পকারখানার উৎপাদন এবং বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে অচলাবস্থা তৈরি করা কোনো সমাধান নয়। বরং কীভাবে চলমান সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যায়, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
গণতন্ত্রের চর্চা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ রয়েছে। সংসদের বাইরেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। তবে শুধু অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
অনুষ্ঠানে দেশের নৃত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি বলেন, গান, বাদ্য ও নৃত্যের সমন্বয়ে মানুষের মধ্যে যে আবেগ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়, তা অনেক সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনকেও শক্তিশালী করে।
জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গান ও নৃত্য মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে আন্দোলনের স্রোতকে আরও বেগবান করেছিল। ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিবেশনা মানুষের মধ্যে বাধা অতিক্রমের সাহস তৈরি করে।
বাংলাদেশের লোকজ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, ঐতিহ্যের ইতিবাচক বিষয়গুলো ধরে রেখে সময়ের সঙ্গে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে ঐতিহ্যের নামে প্রচলিত অমানবিক ও বৈষম্যমূলক প্রথাগুলো বাদ দিতে হবে।
সতীদাহ প্রথার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে সমাজে বিভিন্ন অমানবিক প্রথা ছিল। সংস্কৃতির মাধ্যমে এখন নারীশিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফারহানা বেবী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। এ ছাড়া বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমদ উজ্জ্বল, সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান (সাইদ সোহরাব), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।

