সিফাত নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সিফাতকে ছেড়ে না দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে যেতে পারে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, অতিষ্ঠ ও বিরক্ত হয়ে সিফাত কী বলেছে, সেটিকে কেন্দ্র করে তাকে এমনভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যেন এতে পুরো বাংলাদেশ ওলটপালট হয়ে গেছে। তার অভিযোগ, দলীয় সন্ত্রাসীরা তাকে থানায় নিয়ে হয়রানি করেছে। এ সময় তিনি সিফাতকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সিফাতকে মুক্তি না দিলে এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন কিংবা এক ডাক্তার মিলনের মতো ঘটনাও পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। কখন কোন ঘটনার মাধ্যমে বড় পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়, তা কেউ বলতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিফাতের বক্তব্যের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তার মুখের ভাষাকে সমর্থন করা হচ্ছে না। তবে যে বিষয় নিয়ে তিনি প্রতিবাদ করেছেন, সেই বিষয়ে দেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে প্রতিবাদে সোচ্চার হবে।
ছয় দফা দাবির পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোনো চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে বরদাশত করা হবে না।
দেশের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দুর্নীতির কারণে মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংকট থাকলেও এসব সেবার বিল নিয়মিতই দিতে হচ্ছে। পানির সংকট নিয়েও মানুষ কথা বলতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট দলের স্বার্থে রাজপথে নামেনি। দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই তারা কর্মসূচি পালন করছে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। রাজপথের পাশাপাশি জাতীয় সংসদেও এই আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।

