প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়ার নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামে এ সুবিধা রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) চালু হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাময়িক নগদ সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনে মানুষকে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ সুবিধায় যোগ্য গ্রাহকেরা ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে ঋণের অর্থ নগদে তোলা বা নিজের ব্যাংক হিসাব কিংবা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) ওয়ালেটে নেওয়া যাবে না।
ঋণের অর্থ নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি বিলদাতা বা সেবাদাতাকে পরিশোধ করতে হবে। বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়, ভ্রমণ, কর ও সরকারি সেবার ফি, ঋণ বা আমানতের কিস্তি এবং বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধে এ সুবিধা ব্যবহার করা যাবে।
ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে ৭, ১৫ ও ৩০ দিন। সুদের পরিবর্তে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি নেওয়া হবে। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সেবা ফি ৭ দিনে ৩ টাকা, ১৫ দিনে ৪ টাকা এবং ৩০ দিনে ৬ টাকা। আর ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে এ ফি হবে যথাক্রমে ৩৫, ৭০ ও ১৩০ টাকা।
নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত সুদ বা আগাম পরিশোধের জন্য কোনো বাড়তি ফি নেওয়া যাবে না। তবে মেয়াদ শেষে পরিশোধ করলে জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। এ জরিমানার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ঋণের দৈনিক সেবা ফির বেশি হতে পারবে না।
প্রাথমিকভাবে অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে ব্যাংকগুলো। পাইলটের ফলাফল পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সুবিধাটি চালু করা হবে।
ঋণগ্রহীতার নিবন্ধন, ঋণ অনুমোদন, অর্থ পরিশোধ ও ঋণ আদায়ের পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করতে হবে। নিরাপত্তার জন্য এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি), দুই স্তরের যাচাই বা একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহারের নির্দেশনা থাকবে।
এ সুবিধা পরিচালনায় ব্যাংকগুলো মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী ও আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে। একই সঙ্গে ঋণ শ্রেণীকরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা, অর্থপাচার প্রতিরোধ ও তথ্যনিরাপত্তা বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, নতুন এ ব্যবস্থার ফলে ছোট অঙ্কের জরুরি ব্যয় মেটাতে গ্রাহকেরা সহজে স্বল্পমেয়াদি ঋণ পাবেন এবং দেশে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার আরও বাড়বে।

