রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করার গভীর ষড়যন্ত্র

নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় প্রায় দুই হাজার আইফোনসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাটিকে ঘিরে কক্সবাজারে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের কর্মকাণ্ড ও তাদের ওপর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ছয় চীনা নাগরিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াহিদুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা কোনো ধরনের খাবার গ্রহণ না করায় কারা কর্তৃপক্ষ কিছুটা বিব্রত অবস্থায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের তথ্যমতে, বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের কিছু নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করছেন এবং তাদের একটি অংশ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এসব অপরাধের মধ্যে এটিএম ও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, অনলাইন ক্যাসিনো, মাদক ব্যবসা, জাল মুদ্রা তৈরি, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালান ও মানব পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে বিভিন্ন অপরাধে কারাগারে রয়েছেন আট দেশের ৩৭৯ বিদেশি নাগরিক। গত ১০ বছরে বিভিন্ন অপরাধের মামলায় আসামি হয়েছেন ৩৩ দেশের ৮৫০ নাগরিক। তাদের মধ্যে নাইজেরিয়ার নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছেন পাকিস্তান ও ক্যামেরুনের নাগরিকরা। তাদের অনেকেই ব্যবসায়িক ও ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন। কেউ কেউ অন-অ্যারাইভাল ভিসায় এসে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের ১৮ নভেম্বর থেকে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৬৪৮ বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন। তাদের মধ্যে ভারত, চীন, নেপাল, পাকিস্তান, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ও ফিলিপাইনের নাগরিক রয়েছেন। তবে এসব তথ্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে কক্সবাজারে বিভিন্ন দেশের নাগরিকের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে ভারত, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা সেখানে অবস্থান করেন। তাদের পরিচয়, অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যভাণ্ডার ও নজরদারি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—এ প্রশ্নও উঠেছে।

কক্সবাজার ফোরামের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আ ন ম হেলাল উদ্দিন বলেন, কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক। তবে শুধু চীনা নাগরিকদের আটকের বিষয়টি যেভাবে গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, সেটি প্রশ্ন তৈরি করেছে। তার মতে, কক্সবাজারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকের নিয়মিত উপস্থিতি থাকায় বিদেশিদের ক্ষেত্রে তদন্ত ও আইন প্রয়োগে সুষম নীতি থাকা প্রয়োজন।

সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা বলছেন, কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বা আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। তাদের মতে, অভিযোগের তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার প্রকৃত সত্য বের করা প্রয়োজন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আরও চারজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অপরাধের চূড়ান্ত সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন