সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরি: সাত বিমানবন্দর বন্ধ, আটকা পৌনে দুই লাখ যাত্রী

নিউজ ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ে বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত রাজধানী জাকার্তাসহ সাতটি বিমানবন্দর বন্ধ ছিল। এতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।

দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে আটটি বিমানবন্দরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯০০টির বেশি ফ্লাইট জাকার্তার সুকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত হতো।

জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লাম্পুং ও পশ্চিম জাভা প্রদেশের কয়েকটি বিমানবন্দরও বন্ধ রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি বলেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় কখন বিমান চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়া শুক্রবার গভীর রাত থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু করে। পরে আগ্নেয়গিরির ছাই জাকার্তা ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার লাভার প্রবল উদ্গিরণ ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কয়েকশ কিলোমিটার দূর থেকেও এসব শব্দ শোনা গেছে।

রোববারও আগ্নেয়গিরিটি একাধিকবার অগ্ন্যুৎপাত করে। সর্বশেষ অগ্ন্যুৎপাত রোববার রাত ৮টা ২৩ মিনিটে রেকর্ড করা হয়। পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সতর্ক করেছে, আগামী দিনগুলোতে আরও অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে।

আকাশে আগ্নেয়গিরির ছাই শনাক্ত হওয়ার পর সুকার্নো-হাত্তা বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। এতে অনেক যাত্রীকে বিকল্প ফ্লাইটের সন্ধান করতে হয়েছে।

অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব পড়েছে জাকার্তার শিক্ষা কার্যক্রমেও। সোমবার অনেক স্কুলে সশরীরে ক্লাসের পরিবর্তে অনলাইনে পাঠদান করা হয়েছে। তবে কত দিন এ ব্যবস্থা চলবে, তা জানায়নি নগর কর্তৃপক্ষ।

আগ্নেয়গিরির ছাই সুমাত্রার দক্ষিণাঞ্চলের বান্দার লামপুং শহরেও পৌঁছেছে। সেখানে গাড়ি ও সড়কের পাশে ছাই জমে থাকতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে আগ্নেয়গিরির কার্যক্রমের কারণে কিছু নৌযান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে।

জাভা ও সুমাত্রাকে আলাদা করা প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগ্নেয়গিরির চারপাশে তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় জাহাজ প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া মানুষকে আগ্নেয়গিরিটির কাছাকাছি না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে বের হওয়া পদার্থ ওই এলাকায় থাকা মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাত থেকে সুনামি সৃষ্টির আশঙ্কা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আনাক ক্রাকাতোয়া গত শতকের শুরুতে সমুদ্র থেকে জেগে ওঠে। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতের পর তৈরি হওয়া বিশাল আগ্নেয়গিরির গহ্বরের মধ্যে এটি গড়ে ওঠে। ওই অগ্ন্যুৎপাতে আনুমানিক ৩৫ হাজার মানুষ মারা যান।

২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতোয়ার একটি অংশ ধসে সুনামি সৃষ্টি হলে ৪২৯ জন নিহত হন এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। ভূত্বকের বিভিন্ন প্লেটের সংঘর্ষের কারণে এ অঞ্চলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পের প্রবণতা বেশি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন