কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানবজাতির জন্য অস্তিত্বগত হুমকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। উন্নত এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৪৭ সদস্যের সামনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তুর্ক। খবর রয়টার্সের।
‘দেরি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে’
তুর্ক বলেন, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার ব্যর্থতা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। তাই এআইয়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় কঠোর নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠায় এখনই সর্বাত্মক উদ্যোগ প্রয়োজন।
উন্নত এআইয়ের সম্ভাব্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে এ খাতের বিশেষজ্ঞদের মতো তিনিও উদ্বিগ্ন বলে জানান তুর্ক। তার মতে, বর্তমানে অল্প কয়েকজন মানুষের হাতে এআই প্রযুক্তিকে ঘিরে বিপুল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রয়েছে।
এআই প্রযুক্তি তৈরি ও এর সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোকে অন্তত কিছু অভিন্ন সীমারেখা নির্ধারণে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নিরাপত্তার চেয়ে এগিয়ে এআইয়ের সক্ষমতা
তুর্কের দপ্তরের এক মুখপাত্র জুলাইয়ে হাগিং ফেসের একটি ওপেন-সোর্স প্ল্যাটফর্মে ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টগুলোর অনুপ্রবেশের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন।
তার মতে, ঘটনাটি ইঙ্গিত করে যে উন্নত বা ফ্রন্টিয়ার এআইয়ের সক্ষমতা তৈরির গতি নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার গতির চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়েও উদ্বেগ
ইউক্রেনে রাশিয়ার তীব্রতর হামলার নিন্দা জানিয়ে তুর্ক মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই প্রাণঘাতী হামলা চালাতে সক্ষম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবহারের প্রতিবেদন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আগস্টে এ ধরনের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়াই প্রাণ কেড়ে নিতে সক্ষম অস্ত্র নিষিদ্ধ করার আহ্বানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন তুর্ক।
বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও মানবাধিকার পরিস্থিতি
বিশ্বজুড়ে ৬০টির বেশি যুদ্ধে অন্তত একটি রাষ্ট্র জড়িত রয়েছে উল্লেখ করে তুর্ক বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
সংঘাত উসকে দেওয়া ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংঘাতের পেছনে থাকা ‘ছায়া খেলোয়াড়দের’ প্রকাশ্যে এনে জবাবদিহির আওতায় আনতে জাতিসংঘ পিছপা হবে না।
ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বাড়তে থাকায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর অভিবাসন হেফাজতে প্রায় ২৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান জানান তুর্ক। আটক ব্যক্তিদের ওপর বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন গ্লাভস ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে চলতি মাসের শেষ দিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ এসব বসতিকে অবৈধ মনে করলেও ইসরায়েল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

