দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও লার্ভার বিস্তার রোধে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভা শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এডিস মশার লার্ভার প্রাদুর্ভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ সময়ে এডিস মশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সম্প্রতি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও মহাপরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পাওয়া তথ্য তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, জানুয়ারি থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, আবার কেউ কেউ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রেড অ্যালার্ট জারি করা উপজেলা ও জেলার হাসপাতালগুলোতে পৃথকভাবে পাঁচটি করে ডেঙ্গু রোগীর বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালের পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তবে ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মীর শাহে আলম বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে এবং এডিস মশার লার্ভা উৎপাদনের সুযোগ বন্ধ করা গেলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।
জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। উদ্বোধনী আয়োজনে স্কাউট, বিএনসিসি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্বেচ্ছাসেবক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রেড ক্রিসেন্ট, রোভার, বিডিক্লিন এবং দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে বিএনসিসি, স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, রোভারসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এছাড়া প্রায় ৫০০ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদের নির্ধারিত স্থানগুলোতে কর্মসূচি পালন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, উদ্বোধনী কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামকে আহ্বায়ক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে তথ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিনিধি, মাউশির মহাপরিচালক, বিএনসিসির মহাপরিচালক, রেড ক্রিসেন্টের মহাসচিব, স্কাউটের নির্বাহী পরিচালকসহ দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সদস্য করা হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, জাতীয় পর্যায় থেকে জেলা ও মাঠপর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচির প্রচার এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে তথ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্য বিভাগ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

