মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি

নিউজ ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং সেখানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি; কিন্তু এর জন্য মূল্য দিতে হয়েছে অনেক বেশি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহত যোদ্ধাদের ঋণ রাষ্ট্র কখনোই শোধ করতে পারবে না। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন আর কোনো ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে যান।

জাদুঘরে পৌঁছালে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

রাষ্ট্রপতি দর্শনার্থী টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘরে প্রবেশ করেন। পরে ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঐতিহাসিক চিত্র পরিদর্শন করেন।

দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে নিহতদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘরও ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রপতি বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনের বিভিন্ন সামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত সেকশন ঘুরে দেখেন। শহিদদের চিঠি, স্মারক ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলন ও সংগ্রামের নানা নিদর্শন দেখেন রাষ্ট্রপতি। পরে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন তিনি। চলচ্চিত্রটি দেখার পরও তাকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়।

পরিদর্শন শেষে জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তাদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার ত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

রাষ্ট্রপতি শহিদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের সাহস ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও সমবেদনা প্রকাশ করেন।

এ সময় জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে ব্রিফ করেন গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন