মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

‘মাননীয়’ সম্বোধন নয়, অনলাইন হাজিরা: নিজ দপ্তরেই নিয়ম মানছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের নামের আগে ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন ফাইল, নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এর আগে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি যোগাযোগ, নথিপত্র এবং সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল পরিপত্রে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও তা কার্যকর করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিজের দপ্তরেই নিয়ম মানার উদ্যোগ

দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও নিজের কার্যালয় থেকে উদাহরণ তৈরি করছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো তিনিও অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন।

সরকারপ্রধান হয়েও প্রচলিত দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলার এই উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা অনুসরণের বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার বদলে প্রাতিষ্ঠানিকতার বার্তা

‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে দায়িত্ব, জনসেবা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিও যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়মের আওতায় থাকেন, তখন প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সরকারি কার্যক্রমে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমানোর বিষয়েও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া দেশে ও বিদেশে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলে পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মূলত এমন একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে—রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরাও বিশেষ সম্বোধন বা অতিরিক্ত সুবিধার বাইরে থেকে নিয়ম, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যেই দায়িত্ব পালন করবেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন