মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আদানির এক ইউনিট বন্ধ, ঘাটতি মেটাতে বাড়ছে লোডশেডিং

নিউজ ডেস্ক

কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পর আবারও কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এতে কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও বেড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং তীব্র হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমতে শুরু করে। প্রায় এক মাস সীমিত উৎপাদনের পর গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করে।

তবে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পর ফের কারিগরি ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আদানির একটি ইউনিট বন্ধের পাশাপাশি আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিটও অচল থাকায় জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের নতুন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় আদানি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এর দুই ঘণ্টা পর থেকেই সরবরাহ কমতে শুরু করে। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পিকে আদানি থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় মাত্র ৬৯১ মেগাওয়াট। এরপরও সরবরাহ ৭০০ মেগাওয়াটের আশপাশে ওঠানামা করছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যেত।

পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় আদানির একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার প্রভাব সরাসরি জাতীয় গ্রিডে পড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বেড়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও কয়েক ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের তথ্য উঠে এসেছে।

এদিকে দেশের অন্যান্য কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও জ্বালানি সংকট ও কারিগরি সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে একাধিক কেন্দ্র থেকে একসঙ্গে কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় সামগ্রিক ঘাটতি আরও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা গেলে উৎপাদন বাড়বে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। তবে ইউনিটটি ঠিক কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভারতের ঝাড়খণ্ডে নির্মিত আদানির গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। এর একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এমনিতেই গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে পিডিবি। এর মধ্যে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন