মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের ওপর নতুন করে চাপ বাড়ছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা এবং সৌদি ভূখণ্ড ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
সর্বশেষ শুক্রবার হুতিরা বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর আগে তারা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলে নেয়। ফলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সরাসরি দিকনির্দেশনার তথ্য পাওয়া গেছে। ইরানের কয়েকটি সূত্রের দাবি, তেহরান হুতিদের সৌদি আরবে হামলা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং অস্ত্র, অর্থ ও সামরিক কর্মকর্তাদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ইরান প্রকাশ্যে হুতিদের সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
এর আগে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব হামলায় ৭৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সৌদি আরব এর জবাবে ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার মোখা বিমানবন্দরেও সৌদি হামলার খবর পাওয়া গেছে।
হুতিদের বাব আল-মান্দাবের দিকে অগ্রসর হওয়াকে সৌদি আরবের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ইরান-সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব তেল পরিবহনের বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরভিত্তিক রুটের ওপর আরও বেশি নির্ভর করছে। বাব আল-মান্দাবও অস্থিতিশীল হলে সৌদি তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ দৈনিক ৬০ লাখ ব্যারেলে নেমে যায়, যা তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। হুতিদের সংশ্লিষ্ট হামলা ও লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের ঝুঁকিও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দাবেও যদি নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা, তেল রপ্তানি এবং লোহিত সাগরের নৌপথ—তিন ক্ষেত্রেই নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

