মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এক সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মন্দিরে আর্থিক অনুদান দেওয়ার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা গ্যাস সংরক্ষণের জন্য সাগরে দুটি জাহাজ রয়েছে। এগুলোর মালিকানা বিদেশি কোম্পানির। এর মধ্যে একটি জাহাজে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অপর জাহাজের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে। গত সপ্তাহ থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তেলের মতো গ্যাসের ক্ষেত্রেও একটি অসাধু চক্র গড়ে উঠেছে। একটি যন্ত্রের মাধ্যমে পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস নেওয়া হচ্ছে। এতে অবৈধভাবে গ্যাস নেওয়া ব্যক্তি লাভবান হলেও অন্য অনেক মানুষ গ্যাস সংকটে পড়ছেন।

অবৈধভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল ব্যবহারের বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু সরকারের পক্ষে এসব বন্ধ করা সম্ভব নয়। জনগণকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সহযোগিতা করতে হবে।

চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের অনেক দেশই বর্তমানে জ্বালানি সংকটে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকে জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে শুরুতে দাম বাড়ানো হয়নি। তবে জ্বালানির অপব্যবহারের কারণে পরে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের মাটির নিচে গ্যাসের মজুত থাকতে পারে, কিন্তু এর প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল এবং জ্বালানি খাতে বিদেশিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাপেক্সকে সক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাস অনুসন্ধান ব্যয়বহুল হলেও সরকার ১৩০টি গ্যাসকূপ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব অনুসন্ধানে নতুন গ্যাসের সন্ধান মিললে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলা নয়, দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এজন্য দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আমদানিও অব্যাহত রাখা হবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী সভাপতিত্ব করেন। এ সময় দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন