রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দেশ পুনর্গঠনের পথে কোনো বাধাই আমাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ ও শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে এলে কেউ তাদের থামিয়ে রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে একটা সাহায্য চাই। আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশে স্কাউটের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ। ডিএনসিসির সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। এবার আপনারা বলেন, আমরা এতগুলো মানুষ যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, কেউ কি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘এখন আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে কীভাবে দেশকে গড়ে তুলবেন। দেশকে গড়ে তুলতে হবে, কারণ আমরা এখানে থাকব।’

তরুণ সমাজের শক্তির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের এত বড় তরুণ জনগোষ্ঠী যদি পরিবর্তনের জন্য এগিয়ে আসে, তাহলে পরিবর্তন আনা সম্ভব। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণ সমাজ কীভাবে পরিবর্তন আনতে পারে, তা সারা বিশ্ব দেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবর্তনের সূচনা তরুণ সমাজ এখান থেকে শুরু করেছেন। কাজেই আসেন, আগামী তিন মাস আমরা ডেঙ্গুর সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। হয়তো আমরা শতভাগ পারব না, কিন্তু ৮০ ভাগ পারব।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাঙা-চোরা জিনিসপত্র, মাটির ভাঙা পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা সামগ্রীতে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটে। তাই সবাই মিলে সচেতনভাবে এসব স্থান পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক পরিবেশও পরিবর্তন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই কিংবা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনলাইনে যুক্ত ব্যক্তিরা যদি টিস্যু বা পানি খাওয়ার পর বোতল যেখানে-সেখানে ফেলে দেন, তাহলে হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু এভাবে ময়লা জমতে থাকলে তা দেখতে যেমন খারাপ লাগবে, তেমনি সেখান থেকে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে।

‘আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, তাতে আমার কী হবে, আমি তো দূরে থাকি। কিন্তু আপনার আপনজন কিংবা প্রিয়জন কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে। কাজেই আমরা নিজেকে ও পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। দেশকে সুস্থ রাখি’—বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিচ্ছন্নতার কাজকে কঠিন নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আজ হয়তো কিছুটা কষ্ট হবে। তবে প্রতি সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা করে নিজের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে সময় দিলে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

যারা যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন, তাদের নিরুৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে বলতে হবে—‘যেখানে-সেখানে ময়লা করবেন না।’

তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে তরুণ সমাজ দেশকে কীভাবে পরিবর্তন করতে হয়, তা দেখিয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে। এবার তরুণ সমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান—দেশ ও রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন