সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ব্রিকসে ঐতিহাসিক ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গৃহীত

নিউজ ডেস্ক

ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’। কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করে বিশ্বের সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে জোটের সদস্যরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিরোধ ও সংঘাত নিরসনে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সম্মেলনের সভাপতি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ ঘোষণাটি প্রকাশ করেন।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সামরিক সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতাও করেছে ব্রিকস।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে যৌথ ঘোষণার ভাষা চূড়ান্ত করতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানের পার্থক্যের কারণে অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

তবে কয়েক দিনের কূটনৈতিক আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত দুই দেশ ঘোষণার ভাষায় সম্মত হয়। এর ফলে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে যৌথ ঘোষণা গ্রহণ সম্ভব হয়।

এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা যায়নি। সেই প্রেক্ষাপটে এবার সদস্য দেশগুলোকে অভিন্ন অবস্থানে নিয়ে আসাকে ভারতের জন্য একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘নয়াদিল্লি ঘোষণায়’ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও প্রভাব বাড়ানোর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন ব্রিকস নেতারা।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া পরিষদে আরও বড় ভূমিকা পালনের বিষয়ে ব্রাজিল ও ভারতের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আরও প্রতিনিধিত্বশীল, কার্যকর ও ন্যায়সংগত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রিকস। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ও ঘোষণায় গুরুত্ব পেয়েছে।

এ ছাড়া ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শুল্ক ও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জোটটির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন নেতারা।

এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ ব্রিকসের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি ব্রিকস সদস্য দেশগুলোতে বসবাস করে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও জোটটির অংশ প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ব্রিকসের সম্মিলিত অবস্থানের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন