মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নবম পে-স্কেলের বাস্তবায়নে নতুন পরিকল্পনা, আসছে নতুন বেতন কাঠামো

নিউজ ডেস্ক

‘নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬’ বাস্তবায়নে নতুন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন শ্রেণির জন্য সাতটি পৃথক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারি করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণের জন্য আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির পরই এর বাস্তবায়ন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং প্রক্রিয়া শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে সাতটি পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব আদেশের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।

এসআরওগুলোর আওতায় থাকবে—বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগ।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, প্রজ্ঞাপন জারির পর বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে বেতন কাঠামো প্রয়োগে কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য থাকায় পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বাস্তবায়নের বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট করা হবে।

তিনি আরও জানান, সাতটি পৃথক এসআরওতে বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে, তার বিস্তারিত বিধান নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি আইবাস প্লাস প্লাসে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ এবং নতুন বেতন নির্ধারণের কারিগরি প্রস্তুতিও চলছে।

বহাল থাকছে ২০ গ্রেড

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

আইবাসে অনলাইনেই নির্ধারণ হবে নতুন বেতন

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি আসতে পারে বেতন নির্ধারণের ডিজিটাল ব্যবস্থায়। সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত ও চাকরি-সংক্রান্ত তথ্য আইবাস প্লাস প্লাসের আওতায় আরও পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

নতুন ব্যবস্থায় প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অনলাইনে আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় চাকরি-সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করবেন। সেখানে পদ, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করতে হবে।

তথ্য পূরণ ও যাচাই শেষে নতুন পে-স্কেলের কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর মূল বেতন এবং প্রযোজ্য ভাতা সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে চাকরিজীবীরা নিজেদের তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামোয় কত বেতন পাবেন, তা অনলাইনেই জানতে পারবেন।

বর্তমানে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, পেনশন, বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অনলাইনে বেতন বিল, জিপিএফ, ঋণ ও আয়কর-সংক্রান্ত হিসাব তৈরির পাশাপাশি ইএফটির মাধ্যমে বেতন ও পেনশন পরিশোধের সুবিধাও রয়েছে।

নবম পে-স্কেলে গ্রেড, মূল বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর জন্য পৃথক বিধান থাকায় নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সফটওয়্যারটির প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাগজে-কলমে বেতন পুনর্নির্ধারণের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে। এতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে গিয়ে বারবার বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন কমতে পারে। পাশাপাশি ভুল হিসাব, দ্বৈত সুবিধা কিংবা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেল শুধু নতুন বেতন কাঠামো প্রবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতেও প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সাতটি পৃথক এসআরও এবং আইবাস প্লাস প্লাসভিত্তিক বেতন নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ব্যবস্থাপনায় আরও সমন্বিত ও ডিজিটাল কাঠামো তৈরি হতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন