মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সচল হলো আদানির বিকল ইউনিট, দুপুরের মধ্যে বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় ইউনিট পুনরায় চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ইউনিটটি সচল হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটি সফলভাবে চালু করা হয়। আদানি পাওয়ার এক বার্তায় জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটির জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় বা সিঙ্ক্রোনাইজেশন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে দুপুরের আগেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।

এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটি বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ত্রুটির আগে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশে সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়।

এতে জ্বালানি সংকটের কারণে আগে থেকেই চাপে থাকা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আরও চাপ তৈরি হয়। বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংও বেড়ে যায়।

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, বয়লারে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামতের কাজ শেষ হওয়ায় দ্রুত ইউনিটটি উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।

এর আগে কয়লা পরিবহনে নানা ধরনের সমস্যার কারণে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে গোড্ডা কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছিল না। আদানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, রেলপথে যানজট, কয়লা পরিবহনে বিধিনিষেধ এবং অতিবৃষ্টির কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় কয়লার মজুত নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে আগস্টের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে কেন্দ্রটির উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। দিনের বেলায় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াটে এবং সন্ধ্যায় তা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠেছিল। পরে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও বয়লারের ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে গোড্ডা কেন্দ্রটি অন্যতম বড় আমদানি উৎস। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটে মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

বন্ধ ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে এবং চলমান লোডশেডিংয়ের চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন