সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ, ১০০টিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

নিউজ ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মাদরাসা নিয়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। জরিপ ও পর্যালোচনার পর ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে আরও ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

২৫২ মাদরাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বন্ধের নির্দেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই খারিজি সম্প্রদায়ের বলে জানানো হয়েছে।

এর মধ্যে মালদায় অন্তত ৪৪টি, উত্তর দিনাজপুরে ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩২টি এবং নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে মাদরাসা রয়েছে।

রাজ্যের সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বৈধ অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে হবে। তা না হলে সেগুলো বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জরিপের পর সিদ্ধান্ত

রাজ্যে স্বীকৃত ও অননুমোদিত মাদরাসার সংখ্যা নির্ধারণে গত জুনে রাজ্যজুড়ে জরিপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তর কলকাতাসহ রাজ্যের আরও ২২টি জেলায় জরিপ চালায়।

জরিপে মাদরাসাগুলোর পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থী ভর্তি ও সংগঠন, অর্থের উৎস এবং নিবন্ধনের অবস্থা খতিয়ে দেখা হয়।

মন্ত্রী টুডু বলেন, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রথম ধাপে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও ১০০টি প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া যাওয়ায় তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে বৈধ অনুমোদন নিয়ে ২ হাজার ১৩২টি মাদরাসা পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে অননুমোদিত মাদরাসার সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৬টি।

বিজেপির সমর্থন, তৃণমূলের আপত্তি

মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘উগ্রপন্থা’ ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, মাদরাসা শিক্ষার আড়ালে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব।

বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা অগ্নিমিত্রা পালও পদক্ষেপটিকে সমর্থন করেছেন। তার দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠানে ‘দেশবিরোধী শিক্ষা’ দেওয়া হতো এবং বাংলাদেশভিত্তিক সন্ত্রাসীরা এসব অননুমোদিত মাদরাসায় আশ্রয় নিত।

‘মাদরাসার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র টানা ঠিক নয়’

তবে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

তিনি বলেন, মাদরাসা মূলত একটি শিক্ষাব্যবস্থা। তাই মাদরাসার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র টানা ঠিক নয়।

সরকারের জরিপ ও পরবর্তী পদক্ষেপকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে এখন রাজনৈতিক বিতর্কও জোরালো হয়ে উঠেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন