রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট করতে চাই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘রিসেট’ করে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে চায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। গত ১৫ বছরের সম্পর্কের ধারা থেকে বেরিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘গুড ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ’ বা কার্যকর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে তা কোনো বহুপক্ষীয় সম্মেলনের ফাঁকে নয়, বরং সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়াই বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট করতে চাই’

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার ভারতের সঙ্গে একটি কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চায়। এ সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তুলতে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছর একটি ‘ঝামেলাগ্রস্ত, ত্রুটিপূর্ণ ও লুটেরা সরকারের’ সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ছিল। সেই ধারা থেকে বের হয়ে এখন নতুন সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ। আর এ পরিবর্তন দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের মাধ্যমেই করতে চায় সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহুপক্ষীয় কোনো সফরের ফাঁকে ভারতের সঙ্গে আলাদা বৈঠকের চেয়ে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সফর হলে সেটি বেশি কার্যকর হবে।

‘সবসময় শুধু ভারতের কথা ভাবলে চলবে না’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে বাংলাদেশের নিজেদের স্বার্থ ও অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার কিংবা রাতের খাবার—সব সময় শুধু ভারতের কথাই ভাবলে চলবে না। নিজেদের দেশের কথাও ভাবতে হবে।

তবে বহুপক্ষীয় ফোরামে ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না—বিষয়টি এমন নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় ক্ষেত্রেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তবে সাইডলাইনে সবার সঙ্গে বৈঠক করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের কাছে বিভিন্ন দেশের অনেক আমন্ত্রণ রয়েছে এবং এসব সফরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা হবে।

সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক পদে আগামী জানুয়ারিতে নির্বাচন প্রসঙ্গেও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সম্প্রতি ওই পদ থেকে সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তার নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, ডব্লিউএইচওর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ ছিল ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিতর্কিত’। তার দাবি, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের পদে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা তার ছিল না।

প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, তৎকালীন সরকার স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তাকে ওই পদে নিয়োগ দিয়েছিল।

‘নিয়োগ নিয়ে তদন্ত হওয়া বিস্ময়কর নয়’

সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্তের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ওই পরিবারের দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিভিন্ন তথ্য এখন সামনে আসছে। ফলে তার নিয়োগের বিষয়েও তদন্ত হওয়া বিস্ময়কর নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সময়ে জালিয়াতি, তথ্য গোপন এবং প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে সায়মা ওয়াজেদকে ওই পদে বসানো হয়েছিল।

তবে ডব্লিউএইচওর পরবর্তী আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনে বাংলাদেশ নতুন কোনো প্রার্থী দেবে কি না—এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন