সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব: অর্থ মন্ত্রণালয়ে কেন আটকে আছে গেজেট?

নিউজ ডেস্ক

মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন পাওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ হয়নি। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হলেও প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব হওয়ায় অনেকের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক আমলা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। তাদের মতে, নতুন বেতন কাঠামোর মতো বড় ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারির আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক, আইনি ও আর্থিক বিষয় যাচাই-বাছাই করতে হয়। সে কারণেই কিছুটা সময় লাগছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। এটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গণমাধ্যমে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর খবর এলেও অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি কোনো ফাইল আটকে থাকার কারণে বিলম্বিত হচ্ছে না। বরং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাগুলো যুক্ত করে একটি নির্ভুল প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরিতে সময় লাগছে।

বিশেষ করে জনপ্রশাসনের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামো কীভাবে নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে, সেটির হিসাব ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরও কেন সময় লাগে

সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় সাধারণত নতুন বেতন কাঠামোর মূলনীতি ও গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এরপর কোন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে কীভাবে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে, তার বিস্তারিত বিধান ও হিসাব প্রণয়ন করতে হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়কে এসব বিষয় সমন্বয় করে প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ বা এসআরওর খসড়াও প্রস্তুত করতে হয়।

খসড়া তৈরির পর তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে প্রস্তাবিত বিধান সংবিধান, বিদ্যমান আইন ও চাকরিবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। কোনো ধরনের আইনি অস্পষ্টতা বা ভবিষ্যৎ জটিলতার সুযোগ থাকলে সেটিও সংশোধন করা হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হলে চূড়ান্ত খসড়া সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। সেখানে মুদ্রণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

আগের পে-স্কেলেও লেগেছিল কয়েক মাস

নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে দুই সপ্তাহের বিলম্বকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না অভিজ্ঞ আমলারা। কারণ, আগের পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনুমোদন থেকে প্রজ্ঞাপন প্রকাশে কয়েক মাস সময় লেগেছিল।

২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছিল। এরপর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর, ১৫ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মতে, সেই তুলনায় এবার মন্ত্রিসভার অনুমোদনের দুই সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হওয়াকে অস্বাভাবিক বলা যায় না।

শিগগিরই ভেটিংয়ে যাবে খসড়া

আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া ভেটিংয়ের জন্য পাওয়া গেলে তারা দ্রুত কাজ শুরু করবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও আশা করছেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয় চূড়ান্ত করার পর খসড়াটি দ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর ভেটিংসহ পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শিগগিরই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব হবে।

দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন পাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ফলে গেজেট প্রকাশের অপেক্ষাও বাড়ছে। তবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুটা সময় লাগলেও এতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন