সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেল দখল করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

নিউজ ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং যুদ্ধের পর দেশটির তেল থেকে যুক্তরাষ্ট্র আয় করতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উদ্যোগের উদাহরণ টেনেছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় বৈঠকের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপ দেখতে যান ট্রাম্প। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আবারও বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই ইরান যুদ্ধ শেষ করার আশা করছেন। তবে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

যুদ্ধ শেষ হলে কমবে পেট্রলের দাম

গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম দ্রুত কমে যাবে। তার ভাষায়, দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ নিচে নেমে আসবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর সোমবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

‘সঠিক চুক্তি’ ছাড়া আলোচনায় নয়

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে কেবল ‘সঠিক চুক্তি’ করতে চান তিনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তিতে যাবে না, যেটি দেশের জন্য ভালো নয়।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান শান্তি আলোচনার জন্য ‘প্রতিনিয়ত’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে তেহরান এর আগে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানে থেকেও তেল থেকে আয়?

এর মধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন একটি সম্ভাবনার কথা সামনে আনেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানে সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে পারে।

এ সময় তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক চুক্তির প্রসঙ্গ টানেন। গত আগস্টে ভেনেজুয়েলা নিয়ে ওই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে সরে আসবে—যদি না সেখানে থেকে গিয়ে ভেনেজুয়েলার মতো দেশটির তেল রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়া রাজস্বের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ওই আয় ‘অনেকবার যুদ্ধের খরচ’ পরিশোধ করেছে।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে ইরান যুদ্ধের সামরিক লক্ষ্য ছাড়াও দেশটির বিপুল জ্বালানি সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন