সৌদি আরবের হামলার জবাবে দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলার জবাবে খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
সোমবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথিরা জানায়, সৌদি আরব এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ইউরোফাইটার টাইফুনসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে কিং খালিদ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
হুথিদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় বিমানঘাঁটির বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে ও অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে এসব হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত দুই সপ্তাহে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। ধারাবাহিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ওই সময় হুথিরা রাজধানী সানা এবং দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর বেশ কয়েক বছর দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলা তুলনামূলকভাবে বন্ধ ছিল।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে সৌদি ও হুথিদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় ইয়েমেন সংঘাত আবারও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

