সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা, হুথিদের ড্রোন ভূপাতিত করল সৌদি আরব

নিউজ ডেস্ক

পবিত্র নগরী মক্কার দিকে আসা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একটি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়। ঘটনাটিকে মক্কাকে ঘিরে বড় ধরনের উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। বুধবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনে বৈধ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গঠিত জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি ঘটনাটিকে ‘রেড লাইন’ বা সীমা লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে জোট কোনো দ্বিধা করবে না।

ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী মক্কা প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ মুসলমানের হজ ও ওমরাহ পালনের প্রধান কেন্দ্র। ফলে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মক্কামুখী এই হামলার ঘটনায় মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জোটের বিবৃতিতে বলা হয়, ওহি নাজিলের ভূমি এবং বিশ্বের লাখ লাখ মুসলমানের হৃদয়ের গন্তব্যকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা ‘লজ্জাজনক কাজ’।

তবে মক্কার আশপাশে হুথিদের হামলা এবারই প্রথম নয়। আরব জোটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালেও মক্কার দিকে ছোড়া হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছিল সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। সে সময় তায়েফ প্রদেশের আল-ওয়াসলিয়া এলাকার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হয়। ওই ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে সোমবার সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফের বেসামরিক এলাকায় হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন আহত হন। এর আগের সপ্তাহেও সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে হুথিদের হামলায় নারী ও শিশুসহ ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন।

এর আগে শুক্রবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে কয়েকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব হামলার মধ্যে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনও লক্ষ্যবস্তু হয়। হামলার পর পাইপলাইনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পবিত্র নগরী ও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি সংহতিও প্রকাশ করেছে তারা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন