রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় আদানি বিদ্যুৎ বন্ধের নাটক করেছে: রিজভী

নিউজ ডেস্ক

পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গণহত্যায় অভিযুক্তদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকার বারবার তাগিদ দিলেও ভারত তাতে সাড়া দিচ্ছে না। বরং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরদিন আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের ‘নাটক’ সাজানো হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।

ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশকে বন্ধুদেশ দাবি করলেও শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে সেই বন্ধুত্বের প্রমাণ মিলছে না। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনার সঙ্গে যারা গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর গুলি চালানো ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের অনেকেও ভারতে পালিয়ে রয়েছে।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশ সরকার আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী তাদের ফেরত চাইলেও ভারত তাদের হস্তান্তর করছে না। অতীতে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এক সাবেক মেজরকে গ্রেপ্তার করে শেখ হাসিনার সরকারের কাছে হস্তান্তরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে শেখ হাসিনাকে কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।

বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের ‘গভীর কোনো উদ্দেশ্য’ রয়েছে। মুখে বন্ধুত্বের কথা বললেও ভেতরে ভেতরে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, তারেক রহমান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তাকে ব্রিকস সম্মেলনে সরকারপ্রধান হিসেবে নয়, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে সাইডলাইনে বসার মতো করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভীর ভাষ্য, স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ওই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান ব্রিকসে যাবেন না বলার পরদিনই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিটে সমস্যার কথা জানানো হয়। ঝাড়খণ্ডে থাকা ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরবরাহ ভারতের ইচ্ছায় বন্ধ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের প্রশংসা

বিগত সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, গত ১৬ বছরে দেশে লুণ্ঠন, অর্থ পাচার, গুম ও গুপ্তহত্যা চলেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের সময়ে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করলেও কোনো বিরোধী নেতা গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হননি বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তার দাবি, জনগণের বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল অঙ্গীকার।

দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকটকে সরকারের তৈরি নয়, বরং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। বিকল্প হিসেবে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির মাধ্যমে শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কারণে দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।

মধুর ক্যান্টিন প্রসঙ্গেও ক্ষোভ

সম্প্রতি মধুর ক্যান্টিন নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, একাত্তরের অর্জনকে মুছে ফেলার কোনো চেষ্টা দেশের মানুষ মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, ডাকসুসহ কয়েকটি জায়গায় সম্প্রতি কিছু ‘অপতৎপরতা’ দেখা যাচ্ছে। মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানানোর চেষ্টা শহীদ মধুর আত্মত্যাগের প্রতি চরম অপমান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি ভিন্ন কৌশলে মুক্তিযুদ্ধের অর্জনের প্রতিশোধ নিতে চাইলে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা ও মুক্তিযোদ্ধারা তা প্রতিহত করবে।

মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন, আনিসুজ্জামান খোকন, মেজর (অব.) মিজানসহ সংগঠন দুটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন