সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ইসলামাবাদ নিজেদের সামরিক সীমাবদ্ধতার কথা স্পষ্ট করার পর হুথি সংকট মোকাবেলায় রিয়াদকে গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফার্স্টপোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। দ্য জেরুজালেম পোস্টের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সহযোগিতার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে হুথি বাহিনীর সামরিক মোতায়েন ও পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে সৌদি আরবকে আগাম তথ্য দেওয়া।
ইরান-সমর্থিত হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের সীমান্ত এলাকা এবং তেল পাইপলাইন ও পাম্পিং স্টেশনসহ বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য হামলা মোকাবেলায় রিয়াদের গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে বাব এল-মানদেব প্রণালি ও আশপাশের সমুদ্রপথে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং তেল অবকাঠামো সুরক্ষায় সৌদি আরব যুক্তরাজ্যের কাছেও সহায়তা চেয়েছে বলে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
সৌদি আরব ও পাকিস্তান সম্প্রতি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ চুক্তিটিকে ‘রক্ষাত্মক ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এর মাধ্যমে অন্য কোনো দেশে সামরিক হামলার সুযোগ তৈরি হয় না।
তার এই বক্তব্যের ফলে সৌদি আরবের পক্ষে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতে পাকিস্তানের সামরিক অংশগ্রহণের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে চুক্তিটিকে ঘিরে ‘ইসলামিক ন্যাটো’র মতো একটি সামরিক জোটের ধারণা নিয়ে আলোচনা হলেও পাকিস্তানের বক্তব্যে সেটির সঙ্গে পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।
সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে ইরান ও তাদের মিত্রদের কাছ থেকে আসা নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সমন্বয়ের বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে আরও দৃশ্যমান হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থাপিত সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিভিন্ন শর্তও দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে রয়েছে।
সব মিলিয়ে হুথি হামলা মোকাবেলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগে পাকিস্তানের পাশাপাশি ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

