সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

‘নৌকা’ বাদ দিয়ে ১২০ প্রতীক, একক প্রার্থীতে ‘না’

নিউজ ডেস্ক

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় ‘নৌকা’ প্রতীক স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি একক প্রার্থী নির্ধারিত হওয়া আসনে ‘না’ প্রতীক ব্যবহারের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সাধারণ ও রাজনৈতিক দলের জন্য মোট ১২০টি প্রতীক সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯৪ অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮-এর বিধি ৯-এর উপবিধি (১) সংশোধন করেছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, স্থগিত প্রতীক বাদে নির্ধারিত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের একটি প্রতীক বরাদ্দ করা যাবে।

সংশোধিত তালিকায় বিভিন্ন প্রচলিত প্রতীকের পাশাপাশি ‘নৌকা’ প্রতীককে স্থগিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই তালিকায় নতুন করে ‘না’ প্রতীক যুক্ত করা হয়েছে।

একক প্রার্থীর আসনে ‘না’ প্রতীক

নতুন বিধানে কোনো আসনে একক প্রার্থী নির্ধারিত হলে ‘না’ প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে একক প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ওই প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যানের বিকল্পও ভোটারদের সামনে রাখার বিধান করা হয়েছে।

সংশোধিত প্রতীক তালিকায় আনারস, আপেল, আম, ঈগল, উট, গরুর গাড়ি, গামছা, গোলাপ ফুল, ঘণ্টা, ঘুড়ি, ট্রাক, ডাব, তারা, বই, সাইকেল, রকেট, রিকশা, লাঙল, একতারা, কলম, কাস্তে, কুড়াল, ঘোড়া, চশমা, চাকা, চাবি, চেয়ার, ছাতা, জাহাজ, টর্চ লাইট, টেলিভিশন, তালা, দাঁড়িপাল্লা, ধানের শীষ, নোঙ্গর, নৌকা (স্থগিত), পানির ট্যাপ, প্রজাপতি, ফুটবল, ফুলকপি, মশাল, মাছ, মোরগ, সিংহ, হাত, হাতি, হাতুড়ি, হেলিকপ্টারসহ মোট ১২০টি প্রতীক রাখা হয়েছে।

প্রার্থী ও হলফনামায়ও পরিবর্তন

প্রজ্ঞাপনে প্রার্থী মনোনয়নের ফরম ও হলফনামার ক্ষেত্রেও কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মনোনীত প্রার্থীর ঘোষণাপত্রের নির্দিষ্ট অংশে নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক হিসাবের তথ্যের পাশাপাশি প্রার্থী অথবা তাঁর নিয়োজিত নির্বাচনি এজেন্টের ব্যাংক হিসাব নম্বর যুক্ত করার বিধান করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রার্থীর হলফনামার সংযুক্তি-১-এর ৩(খ) নম্বরে কিছু তথ্যের ক্ষেত্রে ‘সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক’–এর পরিবর্তে তা ‘দাখিল ঐচ্ছিক’ হিসেবে বিবেচনার বিধান করা হয়েছে।

হলফনামার ৩(গ) নম্বরে ‘অভিযুক্ত’ শব্দের ব্যাখ্যাও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সংশোধিত বিধানে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বলতে এমন আসামিকে বোঝাবে, যার বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ বা চার্জ গঠন করেছে।

এ ছাড়া হলফনামার নির্দিষ্ট অংশে প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশোধনী নথি প্রকাশ করা হয়।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন