সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার তেল কিনছে সরকার

নিউজ ডেস্ক

চলতি বছরের বাকি সময়ের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চীন ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক, পেট্রোচায়না ও বিএসপি থেকে এসব জ্বালানি তেল কেনা হবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়।

সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এর আগে জিটুজি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে জ্বালানি কেনার যে শর্ত ছিল, তা এই সময়ের জন্য শিথিল করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত রাষ্ট্রায়ত্ত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় জ্বালানি কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি আমদানির অনুমোদন

একই দিনে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল রয়েছে।

জিটুজি পদ্ধতিতে এসব জ্বালানি আমদানি করা হবে। ২০২৬ সালের জন্য আগে অনুমোদিত জিটুজি আমদানির পরিমাণের তুলনায় এই অতিরিক্ত আমদানি প্রায় ১০ শতাংশ। পরিবহন, শিল্প ও বিমান চলাচল খাতে বাড়তি চাহিদা মেটানো এবং পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।

জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাড়তি উদ্যোগ

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার অতিরিক্ত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

এর আগে আগস্টে জ্বালানি ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে একাধিক এলএনজি কার্গো আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ থাকায় সরকার আমদানি পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আনছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন আমদানি ও বাড়তি মজুতের মাধ্যমে বছরের শেষভাগে দেশের পরিবহন, শিল্প, বিদ্যুৎ ও বিমান চলাচল খাতে জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর আমদানি ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ নির্ভর করবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন