চলতি বছরের বাকি সময়ের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চীন ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক, পেট্রোচায়না ও বিএসপি থেকে এসব জ্বালানি তেল কেনা হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়।
সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এর আগে জিটুজি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে জ্বালানি কেনার যে শর্ত ছিল, তা এই সময়ের জন্য শিথিল করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত রাষ্ট্রায়ত্ত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় জ্বালানি কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি আমদানির অনুমোদন
একই দিনে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল রয়েছে।
জিটুজি পদ্ধতিতে এসব জ্বালানি আমদানি করা হবে। ২০২৬ সালের জন্য আগে অনুমোদিত জিটুজি আমদানির পরিমাণের তুলনায় এই অতিরিক্ত আমদানি প্রায় ১০ শতাংশ। পরিবহন, শিল্প ও বিমান চলাচল খাতে বাড়তি চাহিদা মেটানো এবং পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।
জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাড়তি উদ্যোগ
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার অতিরিক্ত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
এর আগে আগস্টে জ্বালানি ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে একাধিক এলএনজি কার্গো আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ থাকায় সরকার আমদানি পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আনছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন আমদানি ও বাড়তি মজুতের মাধ্যমে বছরের শেষভাগে দেশের পরিবহন, শিল্প, বিদ্যুৎ ও বিমান চলাচল খাতে জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর আমদানি ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ নির্ভর করবে।

