ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফেরার পর জনসম্মুখের কর্মসূচি থেকে বিরত রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি আপাতত বিশ্রামে রয়েছেন বলে বুধবার জানিয়েছে তার কার্যালয়।
৭৩ বছর বয়সী রামাফোসা সোমবার নয়াদিল্লি থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরেন। দেশে ফেরার পর চিকিৎসকেরা তাকে বিশ্রাম নেওয়া এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার পরামর্শ দেন। এ কারণে তিনি নির্ধারিত বিভিন্ন জনসম্মুখের কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রামাফোসার কার্যালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভব হলে নির্ধারিত কর্মসূচিগুলোতে মন্ত্রীরা প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার উপপ্রেসিডেন্ট পল মাশাটাইলও একটি ছোট চিকিৎসা প্রক্রিয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠছেন। ফলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রেসিডেন্ট—শীর্ষ দুই নেতা বর্তমানে জনসম্মুখের দায়িত্ব থেকে দূরে রয়েছেন।
অন্যদিকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফরের পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
চীন ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ওয়ানজুন শিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ব্রিকস সম্মেলন চলাকালে শি জিনপিং জ্ঞান হারিয়েছিলেন। পরে জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষ একটি ফ্লাইটে চীনে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ওই পোস্টে আরও দাবি করা হয়, চীনে ফেরার পর শিকে বেইজিংয়ের চাইনিজ পিপলস লিবারেশন আর্মি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, যা বেইজিং ৩০১ হাসপাতাল নামেও পরিচিত।
ওয়ানজুন শিয়ের দাবি অনুযায়ী, শি গুরুতর ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন এবং চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করছেন। ভারতে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তাকে দ্রুত বেইজিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও পোস্টে দাবি করা হয়।
তবে এসব তথ্যের কোনো স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। চীনা সরকার কিংবা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ—কেউই শি জিনপিং জ্ঞান হারানো, স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দাবিকে আপাতত নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

